চট্টগ্রাম সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:১৭ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ আলী

ওয়াসার অনুকূলে জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট

স্যুয়ারেজ প্রকল্পের আঁধার কাটল

কারিগরি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর কাল

নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়)। আগামী শনিবার কারিগরি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ান কোম্পানি এরিঙ্কো কো., বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বিইটিএস কন্সালটিং সার্ভিস লিমিটেড, ডেভ কন্সালট্যান্ট লিমিটেড এবং ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে নগরীর হালিশহর এলাকায়। ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার মামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াসার সাথে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির বিরোধ চলে আসছে। এ কারণে প্রকল্পের কাজে নতুন করে সমস্যা দেখা দেয়। সর্বশেষ গত ৬ নভেম্বর আদালত ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে এ সংক্রান্ত ওয়াসার অনুকূলে রিপোর্ট দেওয়া হয়। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এ সমস্যা অনেকটা দূর হয়। উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত কাগজপত্র গত ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম ওয়াসায় এসে পৌঁছে। এর আগে বোর্ড সভায় অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে ওয়াসা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) কারিগরি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ান কোম্পানি এরিঙ্কো কো., বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বিইটিএস কন্সালটিং সার্ভিস লিমিটেড, ডেভ কন্সালট্যান্ট লিমিটেড এবং ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এর সাথে আগামী শনিবার চুক্তি স্বাক্ষর করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।’
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘ওয়াসার সুয়্যারেজ প্রকল্পটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এরপর প্রকল্পটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন পায়। তিন হাজার ৮০৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষ হলে চট্টগ্রাম শহরে এটিই হবে স্যুয়ারেজের ওপর ওয়াসার প্রথম প্রকল্প। বাংলাদেশ সরকার ও ওয়াসার যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর হালিশহরে চট্টগ্রাম ওয়াসার ১৬৫ একর জায়গাতে পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে মোট ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন, ১৫টি পাম্প স্টেশন, ১৪৪ কিলোমিটার সার্ভিসলাইন করা হবে। ২০২১ সালের শুরুতে পাইপলাইন বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। যার মাধ্যমে বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করে পরিশোধনের পর তার পানি সাগরে ফেলে দেওয়া হবে। অবশিষ্ট কঠিন বর্জ্য দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি হবে। এর জন্য তৈরি হবে দিনে ৮০ হাজার ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতার একটি পয়ঃশোধনাগার এবং দৈনিক ৪৫০ ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতার একটি ফিকেল স্লাজ শোধনাগার’।

ওয়াসা সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছর পর স্যুয়ারেজের ওপর প্রথম প্রকল্প তৈরি করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এর আগে ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছর ধরে নগরীর ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে সেবা সংস্থাটি। এর মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং স্যুয়ারেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়াসা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরীর ২০ লাখ মানুষ স্যুয়ারেজের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ওয়াসা এর আগে নগরীতে শুধু পানি সরবরাহ করেছে। স্যুয়ারেজ বা পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে নগরীর সব রকমের বর্জ্য সরাসরি নালা-খাল হয়ে কর্ণফুলী ও হালদা নদী এবং সাগরে পতিত হচ্ছে।

The Post Viewed By: 121 People

সম্পর্কিত পোস্ট