চট্টগ্রাম সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:০৩ পূর্বাহ্ন

মরিয়ম জাহান মুন্নী

চবি এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রথম পুনর্মিলনীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে প্রাক্তনরা

দল বেঁধে লাল, সবুজ, কমলা রঙ মিলিয়ে একই রঙের টি-শার্ট পড়েছে নারী-পুরুষ সবাই। ফুলের সাজে সেজেছেন নারীরা। বান্ধবীরা মিলে এক কালারের শাড়ি পড়েছেন। হাতে চুড়ি, গলায় ফুলের মালা, মাথায় ফুলের ব্যান্ড পড়ে নবীনদের মত সেজেছে প্রবীণরাও। খুশিতে মেতে উঠেছেন সবাই। দেখে মনে হয় এযেন নবীন-প্রবীনের প্রাণের মেলা। পুরানো বন্ধু-বান্ধবীকে দেখলেই আবেগাপ্লুত হয়ে জড়িয়ে ধরছেন একে অন্যকে। করছেন মধুর স্মৃতিচারণ।

গতকাল বিকেল চারটায় সিআরবির শিরিষতলায় হাসি, কান্না আর উচ্ছ্বাসে এমন আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন এ প্রথম পুনর্মিলনীর আয়োজন করেছে। দুপুর তিনটায় চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে শুরু হয় মুল উৎসবের। শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে বের হয়ে নগরীর চট্টেশ^রী মোড়, জামালখান দিয়ে সিআরবি শিরিষতলায় যায়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন কয়েক হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৬৬ সালের প্রথম ব্যাচ থেকে শুরু করে ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আছে। সুবর্ণ জয়ন্তীর পর এই আনন্দ শোভাযাত্রায় প্রত্যেকটি ব্যাচ ও প্রত্যেকটি বিভাগ অনুযায়ী আলাদাভাবে ব্যানার, ফেস্টুন, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে হরেক রকমের টি-শার্ট পরে নেচে গেয়ে আনন্দ করেছেন সবাই। শোভাযাত্রায় চবির সেই ঐতিহ্যবাহী শাটল ট্রেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছিল পুরো চারুকলা ক্যাম্পাস। শুধু ক্যাম্পাসই নয়, উৎসবের আমেজে সেজেছে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মোড়। পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়ায় আনন্দের জোয়ারে ভাসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনরা। সন্ধ্যা ছয়টায় সিআরবিতে কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার, এলামনাই এসোসিয়েশনের

সভাপতি সাবেক মূখ্যসচিব মো. আবদুল করিম, এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহাবুবুল আলম, উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন চৌধুরী নাসিম ও সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন। ফজলে করিম চৌধুরী এমপি বলেন, এ এক সুন্দর মুহূর্ত। পুরো সিআরবি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। কত পুরনো বন্ধুকে দেখছি। সত্যিই খুব ভালো লাগছে। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন মেয়ে কম ছিলো। সেই শাটল ট্রেনের স্মৃতি খুব মধুর ছিল। শুভ কামনা সব সময়ই থাকবে প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ড. শিরীণ আখতার বলেন, শিক্ষার এক সুন্দর পরিবেশ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। চারপাশে প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য ঘেরা পুরা বিশ্ববিদ্যালয়। একদিন এটি দেশ সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।

‘এসো মাতি প্রাণের উল্লাসে’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে সন্ধ্যায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা সিআরবির শিরিষতলায় বাউল সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। আনন্দের জোয়ারে ভাসাতে গান পরিবেশন করে বিখ্যাত বাউল শিল্পী প্রফেসর হানিফ ও টুনটুন ফকির। গানের সাথে নেচে গেয়ে আনন্দ করতে থাকেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। দেখে মনে হয় এই বুঝি ২১-২২ বছরের যৌবনে ফিরে গেছেন তারা। আবার নিজেদের বন্ধুদের সাথে মিলেও খালি গলায়ও গান করে অনেকে।

বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা গ্রামীণ ব্যাংকের এরিয়া ম্যানেজার ম্যানেজমেন্ট ডিপাটমেন্ট ১৪তম ব্যাচের মো. শামছুজ্জামান হারানো দিনের সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, কি সুন্দর ছিল সেই দিনগুলো। এখনো মাঝে মাঝে মনে পড়ে সেই দিনের কথা। বন্ধুদের সাথে শাটল ট্রেনে করে ভার্সিটি আসা যাওয়া করতাম। কত ঝগড়া করেছি, আবার এক সাথে বসে খেয়েছি। সেই হারানো ক্লাসগুলোর কথা মনে হলে চোখে পানি চলে আসে। অনেক সময় দুষ্টুমি করে আমরা সবাই মিলে ক্লাস ফাঁকি দিয়েছি। বান্ধবীদের সাথে কতোই না ফাজলামি করেছি।

বর্তমানে মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ৩০ তম ব্যাচের মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে কত স্মৃতি। সেই স্মৃতিগুলো মনে হলে এখনো মনের মধ্যে দোলা দিয়ে যায়। আমি খুব ভাগ্যবান এমন সুন্দর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছি। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশ প্রকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা।

১৫তম ব্যাচের কামরুন নাহার ঝর্ণা বর্তমানে পিটিআইতে কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতাম তখন মেয়ের সংখ্যা অনেক কম ছিল। তবুও সবার সাথে কি সুন্দর এক পরিবেশে পড়াশোনা করে বের হয়েছি। এখনো মনে হলে ইচ্ছে করে সেই দিনগুলোতে ফিরে যাই।

১০তম ব্যাচের তাহের হোসেন চৌধুরী বলেন, বয়স হয়েছে তবুও মিস করতে ইচ্ছে করছে না। তাই চলে এসেছি। ১৮তম ব্যাচের হাসান মুরাদ ও ২০তম ব্যাচের নজরুল ইসলাম দুইজনেই ব্যবসায়ি। তারা বলেন, এখানে এসে অনেক পুরানো বন্ধুদের পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে তাদের দেখে। যেদিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েছি এরপর আর দেখা হয়নি এমন বন্ধুর সাথেও দেখা হয়েছে। মেয়ে বন্ধুদের সাথেও দেখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্মিলন উপলক্ষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিদেশ এসেছেন। আবার ঢাকা, কুমিল্লা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন অনেকে।

The Post Viewed By: 75 People

সম্পর্কিত পোস্ট