চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:০৩ পূর্বাহ্ন

ডেইজী মউদুদ

‘আবার দেখা যদি হলো সখা’

‘পূরণো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায় , ওসে চোখের দেখা প্রাণের কথা সে কি ভোলা যায়’ গলা ছেড়ে গানটি নাই গাইলেও গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রথম পুনর্মিলনী আয়োজিত র‌্যালিতে উপস্থিত প্রত্যেকের মনে প্রাণে বার বার বেজেছিল সেই গান আর সুরের অনুরণন। হেমন্তের মিঠে কড়া রোদ উপেক্ষা করে ঘড়ির কাঁটা ৩ টা ছুঁতে না ছুঁতেই চারুকলা অঙ্গন চবির প্রাক্তনীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। লাল সবুজ টি শার্ট বর্ণিল ফুলের মালা গলায় পড়ে নাচতে নাচতে র‌্যালি নিয়ে এগিয়ে যায় শিরীষতলা অভিমুখে। চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের ১৫তম ব্যাচ। তাদের দলনেতা আলাউদ্দীন নাসিম,

বিজিএইএর সাবেক সভাপতি নাসির চৌধুরীর নেতৃত্বে ব্যানার নিয়ে এগিয়ে চলে তাদের লালসবুজের র‌্যালি। এর আগে বেলুন উড়িয়ে র‌্যালির উদ্বোধন করেন এলামনাই এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে প্রধান মন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবদুল করিম, চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, আলাউদ্দীন নাসিম ,গিয়াস উদ্দীন সহ আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ। প্রতিটি ব্যাচ তাদের নিজ নিজ ব্যানার নিয়ে এগিয়ে যায়। ঢোল বাদ্য আর বাজনার তালে তালে বিভিন্ন রংএর টি শার্ট নিজেদের পরিচিতিম তুলে ধরে । বয়স যেন কার হার মানে আবেগ আর উচ্ছ্বাসের কাছে। কে বলবে তারা সত্তরোর্ধ, ষাটোর্ধ , পঞ্চাশোর্ধ কিংবা চল্লিশের কোটায়! এরই ফাঁকে চলে ফটো সেশন, সাথে সাথে তা আবার আপলোড ও চলছে বিশেষ করে প্রবাসী বন্ধুদের জন্য ,যারা আসতে পারেননি। সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুবর্ণ আর সোনার বাংলায় ছিলনা তিল ধারণের ঠাঁই। সেখান থেকে তারা ভিডিও আপলোড করে জানিয়ে দেয় প্রাণের উৎসবে যোগ দিতে তারা কি পরিমাণ আনন্দ আর বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার বয়ে নিয়ে আসছিল।যার যার মতো করে চলে গল্প, গুঞ্জন, খুনসুটি আর আড্ডা । এসবের মধ্য দিয়ে সিআরবির শিরীষতলায় গতকাল সন্ধ্যায় ব্যতিক্রমী এক ইতিহাস রচিত হয়।সারা বাংলাদেশ থেকে ছুটে এসে মিলিত হয় চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সূচনালগ্ন থেকে সদ্য পাস করে বের হয়ে আসা শিক্ষার্থীরা। বিশাল বিশাল বৃক্ষের নীচে পাহাড়ি নির্জন এলকাটি গতকাল ছেয়ে যায় মানুষের মিছিলে।এ উপলক্ষে সিআরবির শিরীষতলাকে এ্ উপলক্ষে নব সাজে সজ্জিত করা হয়। পাহাড়ঘেরা বন বনানী সমৃদ্ধ নিরিবিলি এ অঙ্গন চবির প্রাক্তনীদের কলকাকলি আর আনন্দযজ্ঞে অন্যরকম ব্যঞ্জনা পায় ।রং বেরং এর আলোকবাতির বর্ণিল ছটায় প্রৃতিটি ব্যাচ তাদের সতীর্থদের নিয়ে গ্রুপ গ্রুপ করে আড্ডায় মেতে উঠে। সন্ধ্যার আলো আধারীর মায়াবী মূর্চ্ছণায় আয়োজকরা মঞ্চে উঠে পায়ার উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বিশাল শিরীষতলা প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে । বাউল শিল্পীদের সুরধারায় নাচতে থাকে সতীর্থরা। আলাউদ্দীন নাসিমের নেতৃত্বে চবির ১৫তম ব্যাচ মঞ্চে উঠে একটি সমবেত সঙ্গীত পরিবশেন করে। বাউল গান আর আতশবাজির ঝলকানিতে শিরীষতলা আলোকিত হয়ে পড়ে । সেই আলোর আভা আর রোশনাই ছড়িয়ে পড়ে বনবনানী আর গাছ পালা ছাড়িয়ে আকাশে বাতাসে। আলোর ঝলকানির মতো একমুঠো উচ্ছ্বাস আর প্রাণের উচ্ছ্বলতা নিয়ে চবির আবাল বৃদ্ধ বণিতা ফিরে আসে নিজস্ব আলয়ে ।

The Post Viewed By: 42 People

সম্পর্কিত পোস্ট