চট্টগ্রাম সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২১ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:১৫ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা হ রাউজান

দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান

কুখ্যাত আলম ডাকাত গ্রেপ্তার

রাউজানে সন্ত্রাসী-পুলিশ গুলিবিনিময় ওসি ও তিন এসআই আহত

রাউজান থানা পুলিশ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে একটি অস্ত্র তৈরির কারখানা ও মজুদের সন্ধান পেয়েছে। ওই কারখানায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ডাকাত সর্দার ১৭ মামলার আসামি আলমগীর ওরফে আলম ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

অভিযানকালে পুলিশ-সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় ২৫ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। এসময় সন্ত্রাসী হামলায় থানার ওসি এবং তিন এসআই আহত হয়েছেন।

এরমধ্যে ওসির অবস্থা গুরুতর। এতে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের পরিমাণ ২০টিরও বেশি। এ অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত আসামি হলো মো. আলমগীর ওরফে আলম ডাকাত (৪১)। সে রাউজান পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজানস্থ সিদ্দিক চৌধুরী বাড়ির মো. আব্দুল সাত্তারের ছেলে।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে প্রায় চারঘণ্টাব্যাপী উপজেলার ৭নম্বর ইউনিয়নের পূর্ব রাউজান গ্রামস্থ রাউজান রাবার বাগান সংলগ্ন ঘোড়া সামছু টিলায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে রাউজান থানায় সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে পুলিশ এ অভিযানের কথা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। এসময় আহত থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ বলেন ‘মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১.৪৫ মিনিটে গোপন সংবাদ পাই যে, রাউজান রাবার বাগান সংলগ্ন ঘোড়া সামছু টিলার উপর (সমতল থেকে উপরে) কতিপয় লোক দেশীয় অস্ত্র তৈরি কওে তা বেচাকেনা করে। এ সংবাদের ভিত্তিতে আমি এসআই সাইমুল ইসলাম, এসআই মহসীন রেজা, এসআই শেখ জাবেদ মিয়া, এসআই মৃদুল বড়–য়া ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্যর একটি দল দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে ওই এলাকায় অভিযান শুরু করি। এসময় ডাকাত সর্দার মো. আলমগীর ওরফে আলম ডাকাতসহ তার সঙ্গীয় অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জন আসামি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আমরাও পাল্টা ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ি। এসময় আসামি আলম তার হাতে থাকা অস্ত্র ফেলে দিয়ে ধারালো ছুরি নিয়ে পালানোর সময় আমি (ওসি) তাকে ধরে ফেলি। এক পর্যায়ে আলম আমার ডান হাতে ছুরি মেরে গুরুতর জখম করে। আসামির সাথে ধস্তাধস্তির সময় অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিরা টিলা থেকে অন্ধকারের মধ্যে পাহাড়ের জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় আসামিদের ফায়ারকৃত কার্তুজের স্পিøন্টারের আঘাতে এসআই সাইমুল ইসলাম, এসআই কামাল, এসআই হামিদ হোসাইন আহত হন। এক পর্যায়ে ধৃত আসামির তথ্য মতে টিলার উপর থাকা টিনের ঘরের ভিতর দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১০টি দেশীয় তৈরি শর্টগান সদৃশ্য বন্দুক, ১টি গ্যাস গান সদৃশ্য অস্ত্র, ৬টি দেশীয় তৈরি পাইপ গান, ১টি পুরাতন ম্যাগাজিন, ৭টি কার্তুজ, ৭টি কার্তুজের খোসা, ৩টি দেশীয় তৈরি এক নালা বন্দুকের অংশ, ২৭টি কাঠের বাট, ১টি ছোট লেদ মেশিন, ১টি তেলের পাম্প বক্স, ১টি লোহা কাটার বড় কাঁচি, ১টি চিমটি, ১টি লোহার ছোট কাঁচি, ১টি পাইপের প্যাচ কাটার মেশিন, ১টি, প্লাস্টিকের তেলের বোতল, ২টি হ্যান্ড ড্রিল মেশিন, ৩টি ড্রিল করার কাঠি, কিছু কয়লা, ১টি কয়লার আগুন ধরানোর মেশিন, ১টি দাসহ অস্ত্র তৈরির আনুষাঙ্গিক আরও কিছু সরঞ্জাম।

প্রায় চারঘণ্টা ধরে অভিযানশেষে ভোরে ঘটনাস্থল থেকে ফিরে পুলিশের দল। থানা পুলিশ জানায়, আহত ওসি কেপায়েত উল্লাহ’র ডান হাত মারাত্মক জখম হয়। তাকে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এই ঘটনায় আহত অন্য পুলিশেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি থানার একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, ডাকাত ও চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে রাউজান, পাঁচলাইশ ও চাঁন্দগাও থানায় খুন, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ সর্বমোট ১৭টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে রাউজান থানায় ৫টি ডাকাতি মামলা, ২টি হত্যা মামলা ও বিভিন্ন চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১ মাস ২০ দিন আগে আলম ডাকাত অস্ত্র মামলায় দশবছর জেল খেটে জামিন পেয়ে বের হয়। এরপর সে আবার শুরু করে অবৈধ অস্ত্রের ঘাঁটি ও অস্ত্র বেচাকেনা। অস্ত্র উদ্ধার ও পুলিমের ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ধৃত আলম উপজেলার ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। সে ২০০৩ সালে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে তথা ক্রস ফায়ারে মারা যাওয়া ১০ সন্ত্রাসীর মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী জানে আলম বাহিনীর প্রধান জানে আলমের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল। ওসি কেপায়েত উল্লাহ বলেন ‘রোহিঙ্গারা অস্ত্র ভালো তৈরি করতে পারে, ওই কারখানায় আলম ডাকাত কোন রোহিঙ্গা এনে অস্ত্র কারখানা সৃষ্টি করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

The Post Viewed By: 104 People

সম্পর্কিত পোস্ট