চট্টগ্রাম সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২১ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:০৮ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা হ সাতকানিয়া নিজস্ব সংবাদদাতা হ পটিয়া

পটিয়ায় আনসার ভিডিপি নেতার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি

তিন পদে একই ব্যক্তি

পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের জসিম উদ্দিন খাঁন নামের একব্যক্তি তিন পদে থেকে বেতন উত্তোলনসহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও আনসার সদস্যদের হয়রানি করার অভিযোগ ওঠেছে। কোলাগাঁও ইউনিয়ন আনসার ভিডিপি দলনেতা, পটিয়া উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার ও কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বদরখালী এলাকার কয়লা উন্নয়ন কেন্দ্রের আনসার হিসেবে নিয়োজিত। একব্যক্তি তিন জায়গায় একই পদে থাকার কারণে বিভিন্ন আনসারের বেতন, ভাতা আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত আনসার সদস্যরা দুর্নীতি দমন কমিশন, আনসার প্রতিরক্ষা

বাহিনীর মহাপরিচালক, র‌্যাব-৭ এর পরিচালক, আনসার ভিডিপির চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আনসার সদস্যরা তোড়জোর শুরু করেছেন। জানা গেছে, আনসার ভিডিপির পটিয়ার দল নেতা জসিম উদ্দিন খাঁন নানা কৌশলে আনসার সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫টি ভোট কেন্দ্রে ৬০জন আনসার দায়িত্বপালন করেন। কিন্তু দল নেতা জসিম ৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ২ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও পূজা, বিভিন্ন সরকারি কাজে আনসার সদস্যদের ব্যবহার করলেও প্রাপ্য বেতন আনসার সদস্যদের দেওয়া হয় না। ৫ হাজার ২ টাকার মধ্যে ১-২ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। মো. সাজ্জাদ হোসেন জয় নামের এক আনসার সদস্য জানিয়েছেন, প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ৩টি পদে কর্মরত

থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু আনসার দলনেতা জসিম উদ্দিন খাঁন অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। অনিয়ম,দুর্নীতির কারণে আনসার সদস্যরা গণস্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে প্রদান করেছেন। তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আনসার ভিডিপির দলনেতা জসিম উদ্দিন খাঁন উল্টো অভিযোগ করে বলেন, জায়গার বিরোধ নিয়ে এলাকার কিছু ব্যক্তির সঙ্গে মূলত বিরোধ চলে আসছিল। বর্তমানে পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ ও ফৌজদারী আদালতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে মামলা বিচারাধীন। মো. হোসেন, সেকান্দর হোসেন নয়ন, শাখাওয়াত হোসেন, সাদ্দাম হোসেন জয় নামের কয়েকজনের সঙ্গে মূলত মামলা চলছে। আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে কেটে নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন।

পটিয়া উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শামীমা আরা বেগম জানিয়েছেন, আনসার সদস্যদের অর্থ আত্মসাত সংক্রান্তে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের কাছে তদন্ত চলছে। একব্যক্তি তিনপদে থেকে বেতনভাতা উত্তোলন করার কোন নিয়ম নেই। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান জানিয়েছেন, আনসার সদস্যদের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে যে অভিযোগ হয়েছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায় অভিযুক্ত আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

The Post Viewed By: 58 People

সম্পর্কিত পোস্ট