চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

২০ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:৫৪ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার

৫৮ বছরে লবণ উৎপাদনের রেকর্ড

দেশে লবণের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে, কোন ধরনের ঘাটতি নাই। দেশে ৫৮ বছরের লবণ উৎপাদনের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বর্তমান যে পরিমাণ লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে তা দিয়ে আরো অন্তত দুই মাস চলবে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী লবণের সংকট দেখিয়ে দাম বৃদ্ধির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ইতিমধ্যে একটা কুচক্রী মহল লবণের কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালিয়েছে। তারা মূলত এ শিল্পকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে। অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সভায় মিল মালিকরা এসব কথা বলেন।

কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত মিল মালিক সভায় সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেছেন, বর্তমানে তিন লক্ষ মেট্রিক টনের ওপরে লবণ উদ্বৃত্ত আছে। কিছু মিল মালিকের কারণে মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সোডিয়াম সালফেটে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। বন্ড লাইসেন্স, কাস্টিং সল্ট ইত্যাদি নামে লবণ আমদানি করছিল একটা শ্রেণি। আমাদের কঠোরতায় ওই রকম লবণ আমদানি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি।
লবণ ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের বাজারে লবণের কোন সংকট নেই। অথচ সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা রাতে এই লবণ নিয়ে ঘটে গেছে তুঘলকি কা-। সিলেট নয়, পুরো বিভাগ জুড়েই একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র অসৎ উদ্দেশ্যে গুজব ছড়িয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে ফায়দা লুটছে একটি চক্র। তবে রাতেই ওই চক্রকে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে।

সভায় লবণ মিল মালিকরা আরো বলেন, কালো বাজারি, উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া ও বিষাক্ত সোডিয়াম সালফেটের কারণে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় লবণ শিল্প। মাঠে ও মিলে পড়ে রয়েছে অন্তত ৬ লাখ মেট্রিক টন অবিক্রিত লবণ। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কালো বাজারিদের লবণ আমদানির কারণে দেশীয় লবণ খাত মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না। পিছিয়ে যাচ্ছে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ খাত। দরপতন অব্যাহত থাকলে সামনের মৌসুমে লবণ চাষীরা মাঠে যাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া ৮০ কেজির লবণের বস্তা মাঠ পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকা দরে। সে হিসেবে কেজিতে পড়ছে মাত্র ৪ টাকা। যা দিয়ে মজুরি বা উৎপাদন খরচও সামাল দিতে পারছে না চাষীরা। অথচ বাজারে প্যাকেটজাত লবণ কেজিতে বিক্রি করা হয় প্রায় ৪০ টাকা। উৎপাদনের পর থেকে বাজারে পৌঁছা পর্যন্ত অন্তত ৩টি হাত বদল হয় লবণের। প্রত্যেক হাতে লাভ পড়ে। কেবল লোকসান সয়েই যেতে হচ্ছে ‘চিরবঞ্চিত’ চাষাদের।

লবণ মিল মালিকদের একটি সুত্র জানায়, অপরিশোধিত লবণ পরিশোধিত তথা খাবার উপযুক্ত ও বাজারজাত করতে কেজিতে সর্বোচ্চ ১ থেকে দেড় টাকা খরচ পড়বে। সে হিসেবে এক কেজি লবণের দাম হওয়ার কথা সাড়ে ৫ টাকার নিচে। কিন্তু বাজারে ভোক্তারা কিনছে প্রায় ৪০ টাকা। নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে লবণের মৌসুম। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে লবণ উৎপাদন হচ্ছে। গেল মৌসুমেও অন্তত ৬ লাখ মে. টন লবণ উদ্বৃত্ত ছিল। সব মিলিয়ে দেশে কোন সংকট পড়বে না লবণের।

লবণ মিল মালিকদের ওই সভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম, আফতাব হোসেন, মাস্টার আব্দুল কাদের, এম কায়সার ইদ্রিস, মো. ফজলুল হক, ওমর ফারুক মিঠু ও সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) কক্সবাজারের লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ মৌসুমে বিসিকের চাহিদা ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মে.টন। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার মে. টন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে কক্সবাজার জেলায় উৎপাদনযোগ্য লবণ জমির পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার ৫৯৬ একর। চাষীর সংখ্যা ২৯ হাজার ২৮৭ জন। এই মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ লাখ মে. টন। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার মে. টন। যা বিগত ৫৮ বছরের লবণ উৎপাদনের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

The Post Viewed By: 73 People

সম্পর্কিত পোস্ট