চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

২০ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:৪৪ পূর্বাহ্ন

মরিয়ম জাহান মুন্নী

ফিশিং ট্রলার নির্মাণে ব্যস্ত কারিগররা

প্রায় ৩০ বছর ধরে চলছে ট্রলার নির্মাণ প্রতিবছর ২০টি নতুন ট্রলার তৈরি হয় প্রতি ট্রলার নির্মাণে খরচ ৬০ লাখ টাকা

চার দিকে দাঁড়িয়ে আছে নির্মাণাধীন নতুন কাঠের তৈরি ট্রলার। সবগুলো ট্রলারেই চলছে কাজ। কোনটা প্রায় শেষের দিকে, কোনটা অর্ধনির্মিত আবার কোনটা মাত্র শুরু হয়েছে। বিকেলের মিষ্টি আলোর সাথে দূর থেকে কাঠের মধ্যে পেরেক মারার শব্দ কানে ভেসে আসছে। শব্দ অনুসরণ করে সামনে যেতেই চোখে পড়ে নতুন ট্রলার তৈরির অসাধারণ দৃশ্য। উচু রাস্তা থেকে সামান্য দূরে রঙবিহীন ট্রলারগুলো দেখেই যে কারও চোখ জুড়িয়ে যাবে। কেউ ভিতরে, কেউ নিচে আবার কেউ পাশে আপন মনে করে যাচ্ছে কাজ। মাথার উপর সূর্যটাও প্রায় অস্তগামী। প্রকৃতিতে সেভাবে গরম অনুভূত না হলেও কর্মরত শ্রমিকরা ছিল ক্লান্ত। হাতে হাতুড়ি, পেরেক, বাড়া, করাতসহ নতুন ট্রলার নির্মাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কর্ণফুলী নদীর কিনারে রাজাখালী সেতু এলাকায় শ্রমিকরা। প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে ট্রলার নির্মাণ করার কর্মযজ্ঞ চলে আসছে। তবে গত মৌসুমে ইলিশসহ প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়ায় এবার ট্রলার নির্মাণের পরিমাণ বেড়েছে। নির্মাণ ঠিকাদার ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাগরে মাছ আহরণে সব ধরনের ট্রলার নির্মাণ করা হয় এখানে। প্রতিবছর প্রায় ২০টি নতুন ট্রলার তৈরি হয়। একটি ট্রলারে কর্মসংস্থান হয় ২৫ জন মানুষের। আকারভেদে ট্রলারের স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য ৫০-৫৬ ফুট হয়ে থাকে। এই ধরনের একটি ট্রলার নির্মাণে সবমিলে ৬০-৭০ লাখ টাকা খরচ হয়। একটা সময় ছিল যখন মাছ ধরার এ ট্রালারগুলো থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা হত। কিন্তু বর্তমানে দেশীয় উদ্যোক্তাদের কারণে

বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে এ ট্রলার। ট্রলারগুলো তৈরিতে ব্যবহৃত কাঠগুলো দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া ও বেলজিয়াম থেকে আমদানি করা হয়। এ বিষয় ট্রলার মালিকরা জানায়, বাংলাদেশের গাছ দিয়ে ট্রলার তৈরি করা যায় না। বিদেশ থেকে আমদানি করা শতবর্ষী বৃক্ষ বাসালো, আযরী জাতীয় বৃক্ষ দিয়ে তৈরি হয় এসব ট্রলার। বিশেষ করে নভেম্বর মাসের প্রথম থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নতুন ট্রলার তৈরির কাজ শুরু হয়। কারণ এসময় নদীর কিনারাগুলো শুকনো থাকে। যার কারণে ছয়মাস ধরে চলে ট্রলার নির্মাণের কাজ। জায়গাগুলো ভাড়া নিয়ে কাজ করা হয়।

কথা হয় নির্মাণ কারিগর কক্সবাজার সদর এলাকার রূপক দাশের সাথে। তিনি নকশা ও ডেকের কাজ করেন। তবে অন্যান্য কাজে পারদর্শী বলে জানান।

রূপক বলেন, ২০ বছর ধরে এখানে ট্রলার নির্মাণের কাজ করছি। কারিগরদের অধিকাংশই কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। সরেজমিন দেখা যায়, রাজাখালী খালের তীরে বিশাল এলাকাজুড়ে ট্রলার নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৯টি ট্রলারের নির্মাণের কাজ চলছে। এরমধ্যে ৭-৮টি ট্রলারের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে।

স্থানীয় বাসিন্দা সামশুল আলম বলেন, এখানে ব্যক্তিগত কোনো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বা ডকইয়ার্ড নেই। ঠিকাদাররা জায়গা ভাড়া নিয়ে এখানে ট্রলার নির্মাণ করেন। ট্রলার নির্মাণের জন্য জায়গা মালিককে ভাড়া দিয়ে থাকেন।

কারিগর মোজাম্মেল হক জানান, ‘কোনো প্রকার নকশা-ডিজাইন ছাড়াই ট্রলার নির্মাণ করা হয়। প্রথমে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ পরিমাপ করে গোছা (কাঠামো) তৈরি করা হয়। ১৬টি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ফিশিং ট্রলার নির্মাণ করা হয়। একটি ট্রলার নির্মাণে ৮-১০ জন কারিগর কাজ করেন। তাদের সাথে ৪-৬ জন জোগালি থাকেন। কারিগরদের দৈনিক বেতন ৭০০ টাকা। ডাবল শিফটে কাজ করলে দেওয়া হয় ১৪শ’ টাকা’।

The Post Viewed By: 57 People

সম্পর্কিত পোস্ট