চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

২০ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:৪৩ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা হ রাজস্থলী

রাজস্থলীতে নিহত তিন ব্যক্তির পরিচয় মেলেনি, লাশ মর্গে

সেনাবাহিনীর টহল জোরদার

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় গাইন্দ্যা ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত তিন ব্যক্তির পরিচয় এখনো মেলেনি লাশ ময়নাতদন্ত শেষে মর্গে রয়েছে বলে জানান পুলিশ। গত ১৭ নভেম্বর সোমবার বিকাল চারটার সময় উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বালুমুড়া মারমা পাড়ায় যাওয়ার আগে যাত্রী ছাউনীর পাশের বাগানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত তিন অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। বিকালে গুলির শব্দ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতংক বিরাজ করে। সন্ত্রাসীদের গোলা গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা সেনাবাহিনীকে খবর দিলে ঘটনা স্থলে দ্রুত রাজস্থলী আমি ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পাশে তিন ব্যক্তির লাশ এবং একটি দেশীয় তৈরি এলজি অন্ত্র ও ২ রাউন্ড এসএমজির গুলির খোসা পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে গুলিবিদ্ধ তিনজনের লাশ ও পাশে পড়ে থাকা দেশীয় তৈরি এলজি ও গুলির খোসাগুলো উদ্ধার করে রাজস্থলী থানা পুলিশ। রাজস্থলী থানা অফিসার ইনচার্জ মফজল আহম্মদ

খান বলেন বিকালে রাজস্থলী উপজেলা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে গাইন্দ্যা ইউনিয়নের বালুমুড়া মারমা পাড়ার পাশে যাত্রী ছাউনী নামক স্থানে সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির এক পর্যায়ে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং নিহতদের পাশ থেকে একটি দেশিয় তৈরি এলজি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার কৃত লাশের পিছনে হাত বাঁধা এবং তিন জনের মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান। লাশের কোন ওয়ারিশ পাওয়া না যাওয়ায় লাশগুলো রাঙামাটি পৌরসভা ইনসপেক্টর মো. সোহেলের নিকট হস্তান্তর করেন বলে জানান। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিচয় পাওয়া যানি। ঘটনার পর থেকে পুরা উপজেলা জুরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করলে সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এদিকে উক্ত ঘটনায় আঞ্চলিক দলগুলো কেউ দায় স্বীকার করেনি। নিহত ৩ ব্যক্তিসহ গত ৭ মাসে রাজস্থলী উপজেলার তিন ইউনিয়নে অঞ্চলিক সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে নাইক্যছড়া আগাপাড়া ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ক্যাহ্লাচিং মারমা (৪৫) কে রাতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে এসে গুলি করে হত্যা করেন। গত ৯ অক্টোবর ভোররাতে সন্ত্রাসীদের গোলা গুলিতে কাকড়াছড়ি সুইচ গেট এলাকায় অংসুইঅং মারমা (৪৫) গুলিতে নিহত হয়। ১৮ আগস্ট প্রতি দিনের ন্যায় টহল দান কালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনা সদস্য নাসিম (১৫) নিহত হন। গত ২৩ অক্টোবর রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এবং হেডম্যান দ্বীপময় তালুকদারকে বিকালে হলুদিয়া পাড়ার বাড়িতে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। তার পরদিন লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রাখলে সকালে এলাকাবাসী লাশ উদ্ধার করে উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। অবশেষে গত সোমবার বিকাল চারটার সময় গাইন্দ্যা ইউনিয়নের বালুমুড়া মারমা পাড়ায় যাওয়ার পথে যাত্রী ছাউনী পাশে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনজন নিহত হন।

The Post Viewed By: 49 People

সম্পর্কিত পোস্ট