চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

২০ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:১০ পূর্বাহ্ন

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকু-

পরিবেশ দূষণের শিকার কয়েক হাজার মানুষ

প্রতি রাতে টায়ার পুড়িয়ে দাহ্য তরল উৎপাদন সীতাকু-

সীতাকু-ে পরিবেশ দূষণ করে টায়ার পুড়িয়ে দাহ্য তেল উৎপাদন করছে এস.এস রুপান্তর নামক একটি প্রতিষ্ঠান। কোনরুপ পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন রাতের আঁধারে টায়ার পোড়ানোর ফলে চরম দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছে ঐ কারখানার পাশর্^বর্তী কয়েক হাজার মানুষ। ফলে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদাসীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাড়বকু- ইউনিয়নের পাহাড়ি গ্রাম অনন্তপুরে পাহাড় কেটে একটি কারখানা তৈরি করেছে একটি চক্র। এস.এস রূপান্তর নামক ঐ প্রতিষ্ঠানে কয়েকটি বয়লার স্থাপন করা হয়েছে। এরপর সে বয়লারে পোড়ানো হচ্ছে টায়ার। এ টায়ার থেকে পাওয়া উপাদানকে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দাহ্য তরল পদার্থ তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। যা বিক্রি করে সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলেও এলাকাবাসী পড়েছে চরম অস্বস্তিতে। সরেজমিনে বাড়বকু- অনন্তপুর গ্রামে গেলে ঐ এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ আমিনুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনারা দিনের বেলায় এখানে এসে কোন কিছু দেখবেন না। তারা রাতের আঁধারে টায়ারগুলো পোড়ায়। ফলে রাতে আমরা ঠিকমত ঘুমাতে পারি না।

এত দুর্গন্ধ বের হয় যে আমাদের নিঃশ^াস নিতে কষ্ট হয়। আমরা দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে ম্যানেজ করে ওরা টায়ার পোড়াচ্ছে বলে শুনেছি। এ কারণে কোন প্রতিক্রিয়া হচ্ছে না। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে এর প্রতিকার দাবি করেন। এদিকে সরেজমিনে কারখানাটিতে গেলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কারখানার লোকজন সেখানে ঢুকতে দেয়নি।

কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার দাবীদার অনিরুদ্ধ দাশ নামক এক ব্যক্তির সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি জানান তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ‘এস এস রূপান্তর’। তিনি বলেন, তারা পরিবেশের কোন ক্ষতি করছেন না। কারখানাটি পরিচালনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আছে বলে জানায় কারখানার লোকজন। বাড়বকু- ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজী বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি আমার কাছ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছে। তবে অন্যান্য দপ্তরের লাইসেন্স আছে কিনা আমার জানা নেই।

সীতাকু- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, টায়ারের পোড়ানোর কোন প্রতিষ্ঠান আমার কাছ থেকে লাইসেন্স নেয়নি। ইতিপূর্বে ওই এলাকায় এরকম একটি প্রতিষ্ঠানকে সীলগালা করা হয়েছিলো। পরিবেশের ছাড়পত্র থাকলে অবশ্যই আমি জানতাম। কোনো আইনের ভিত্তিতে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

The Post Viewed By: 34 People

সম্পর্কিত পোস্ট