চট্টগ্রাম রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:০৩ পূর্বাহ্ন

পূর্বকোণ ডেস্ক

সড়ক নিরাপত্তা : কেন প্রয়োগ হচ্ছে না নতুন আইন?

নতুন সড়ক পরিবহন আইনটির প্রয়োগ কয়েক দফা পিছিয়েছে। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের মুখে গত বছর যে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাশ হয়েছিল – তার বাস্তবায়ন কয়েক দফা পিছিয়ে যাওয়ার পর গত রবিবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। কবে থেকে এটি কার্যকর হবে সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, তারা নতুন সড়ক পরিবহন আইন মানেন না। অন্যদিকে মালিকরা বলছেন, তারা আইনটি কার্যকর করার আগে আরও সময় চান। কী কারণে এটি কার্যকর করতে এত সময় লাগছে?

যা বলছেন চালকেরা

বাংলাদেশে রবিবার থেকে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পুরোপুরি প্রয়োগ হবার কথা ঘোষণা করেছিলেন পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সকাল থেকে ঢাকার রাস্তায় গণ-পরিবহনের সংখ্যা কিছুটা কমও ছিল। তবে আইনটি প্রয়োগের তেমন কোন লক্ষণ দেখা
যায়নি। লিটন শেখ নামে একজন বাসচালক বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে তারা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেবেন।
তিনি বলছেন, ‘যেভাবে আইন করেছে এই অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না। কারণ রাস্তার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। কারণ রিক্সা, অটো নিয়মমাফিক চলে না। শুধু শুধু আমাদের নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়েছে’।

চালকদের যত জনের সাথে কথা হয় – তাদের সবারই আপত্তি একটি জায়গায়।
নতুন আইনে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও পাঁচ বছরের সাজার ব্যবস্থা রাখা রয়েছে। চালকরা অপরাধ বারবার করলে কঠোর বিধিগুলো আরোপ হবে।

ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা, নির্ধারিত গতি সীমার অতিরিক্ত গতিতে বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালানোর ফলে দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু হলে সেক্ষেত্রে আইনটিতে দ-বিধির কয়েকটি ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে।
এসব ধারায় পরিবর্তন চান চালকেরা। বেশ ক্ষুব্ধভাবে সেটাই বলছিলেন আরেক বাস চালক রাজু আহমেদ।
তিনি বলছেন, ‘আমার পক্ষে সম্ভব পাঁচ লাখ টাকা দেয়া? এই যে ধরেন গুলি করে মারে, ড্যাগার দিয়ে মারে সেগুলোর কোন বিচার হয় না। কিন্তু আমি একসিডেন্ট করলাম সেজন্য ৩০২ ধারা। মানে মার্ডার’।

তিনি আরও বলছেন, ‘এই আইন কার্যকর হলে সারা বাংলাদেশের গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেয়া দরকার’।
চালকদের বক্তব্য – তারা সাবধান হয়েই গাড়ি চালান, কিন্তু যাত্রীদের যতটা সচেতন হওয়া দরকার সে ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশ গাড়ির সংখ্যা ৪০ লাখের উপরে যার মধ্যে গণ-পরিবহনের সংখ্যা দেশে পাঁচ লাখের মতো।
মালিকদের আপত্তি যা নিয়ে

কিন্তু নতুন আইনটি প্রয়োগ হচ্ছে কিনা বা কবে থেকে হবে – তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করে কোন কিছু বলতে পারেনি। ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে বলা হয়েছে তারা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে আদেশের অপেক্ষা করছেন। মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে নতুন আইনে অনেক অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে এটি কার্যকর করার ব্যাপারে আরও সময় চাওয়া হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলছেন, ‘আইন যেটা সরকার চাচ্ছে সেটা কার্যকর হবে। কিন্তু কিছু কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। সেগুলো সমাধান করতে হবে। আইনের বিধিটা করা উচিত’। ‘বিধি করার আগে আইন প্রয়োগ করলে তাতে জটিলতা হবে’। তিনি আরও বলছেন, ‘আইন প্রয়োগ নিয়ে আমাদের কোন দাবি নেই তবে আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম সময়টা বাড়ানোর জন্য। এখন সবাই বিআরটিএ-তে লাইন দিচ্ছে লাইসেন্স বা ফিটনেস করানোর জন্য। অনেক ভিড় সেখানে’।

‘আইন সম্মান করেই হোক আর যে কারণেই হোক সবাই যাচ্ছে। সেই সময়টুকু তাদের দেয়া দরকার’।
তিনি বলছেন, গণ-পরিবহনের সংখ্যা দেশে পাঁচ লাখের মতো কিন্তু দেশে প্রাইভেট কারসহ নানা ধরনের গাড়ি[র সংখ্যা ৪০ লাখের উপরে। কিন্তু তাদের উপরেই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বেশি।

The Post Viewed By: 39 People

সম্পর্কিত পোস্ট