চট্টগ্রাম রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:০৩ পূর্বাহ্ন

আল-আমিন সিকদার

ঢাকায় মামলা, মুখ থুবড়ে চট্টগ্রাম

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রবিবার নতুন সড়ক আইন কার্যকরের ঘোষণা দেয়ার পরপরই গতকাল সোমবার ঢাকার সড়কে নেমে যায় বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেটরা। প্রথমদিনেই ঢাকার সড়কে ৮টি মোবাইল কোর্টে মামলা হয় ৮৮টি। জরিমানা আদায় করা হয় এক লাখ ২১ হাজার টাকা।

কিন্তু, ঢাকায় মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা রাস্তায় নেমে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করলেও চট্টগ্রামে কোন অভিযানই হয়নি। চট্টগ্রাম বিআরটিএ-তে একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা না দেয়ায় তিনি কোন ভূমিকা রাখতে পারছেন না- এমন বক্তব্য সড়ক কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে, নির্দেশনা আর আনুষঙ্গিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সুবিধা না থাকায় ট্রাফিক পুলিশও নতুন আইন কার্যকরের পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ। ঢাল- তলোয়ারবিহীন এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়ন কার্যতঃ মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বিনা দ্বিধায় স্বীকার করছেন, নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নে এখনো প্রস্তুত নয় চট্টগ্রাম। এদিকে, ঢাকায় মোবাইল কোর্ট শুরু হওয়ার সাথে সাথে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চট্টগ্রামের সড়কে। এতে সড়কে গণপরিবহন সংকটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রী। চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে নিযুক্ত দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হলেন এস এম মনজুরুল হক ও নুরে জামান চৌধুরী। বিআরটিএ আদালত-১২ এর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক। গত ১৩ নভেম্বর তাকে বিআরটিএ থেকে বদলি করে উপজেলা নির্বাহী অফসার (ইউএনও) করা হয়। অন্যদিকে আদালত-১১ এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নুরে জামান চৌধুরী নামে যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হয়েছেন তিনি এখনও মোবাইল কোর্ট পরিচালানা করার মত ক্ষমতাও পাননি। গতকাল নতুন সড়ক আইনে চট্টগ্রামে কখন থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে জানতে চাইলে এসব তথ্য জানান এই দুই ম্যাজিস্ট্রেট।

সদ্য ইউএনও পদে বদলি হওয়া বিআরটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক পূর্বকোণকে বলেন, ‘গত ১৩ নভেম্বর এক আদেশের মাধ্যমে আমাকে

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়। বিআরটিএতে নতুন আইন কার্যকরের কোন নির্দেশনা এসেছে কিনা তা আমি জানি না। তবে বিআরটিএতে বর্তমানে যে ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, এ বিষয়ে আপনি তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন’।
বিআরটিএ আদালত-১২ এ নিযুক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরে জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমি অল্প কিছু দিন হয়েছে বিআরটিএ’তে যোগদান করেছি। এখনো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য যে ক্ষমতা অর্পণ করা হয় তা পাইনি। যেহেতু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে এখনো অনুমতি বা ক্ষমতা পাইনি তাই বিআরটিএ হেড কোয়ার্টার থেকে আমার কাছে কোন নির্দেশনাও আসেনি। তাই কবে নাগাদ নতুন সড়ক আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারবো তা জানি না’।

এদিকে নতুন সড়ক আইনে শাস্তি ও জরিমানার হার বাড়িয়ে যে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার তা এখনো পুলিশের মামলা দেয়ার অটো মেশিন ‘পিওএস’ এ অন্তর্ভুক্ত হয়নি। জরিমানা নির্ধারণ করে এখনো ছাপানো হয়নি মামলার বই। তাইতো পুলিশ এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রামসহ দেশের কোথাও নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নে যেতে পারেনি।

নগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোস্তাক আহমেদ পূর্বকোণকে বলেন, ‘নতুন আইন কার্যকরে আমরা আরেকটু পরিকল্পনা করছি। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি। মামলার মেশিন ও বইয়ের বিষয়ে যেটা বললেন, সেটারও প্রস্তুতিতে আমরা প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর পিওএস মেশিনটাতে জরিমানা নির্ধারণ করে সেটা প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে সেট করা হয়। সেটা সেন্ট্রাল পর্যায়ে করা হয়। এটা চট্টগ্রামে করা হয় না। সেন্ট্রালে যখন করবে তখন চট্টগ্রামেও এটা অটোমেটিকভাবে চলে আসবে’।

The Post Viewed By: 74 People

সম্পর্কিত পোস্ট