চট্টগ্রাম শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:০২ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক হ

৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে তিশা

পরিবারের দেখা নেই ইসমাইলের

নগরীর পাথরঘাটা এলাকার বিস্ফোরণের ঘটনার দু’দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো স্বজনদের দেখা পায়নি আহত ইসমাইল হোসেন। আহত অন্যদের স্বজনরা তাদের নিয়মিত খোঁজ-খবর নিলেও তা থেকে বঞ্চিত এই ইসমাইল। তবে নিয়মিত দেখাশোনা ও চিকিৎসা সেবার কমতি নেই ইসমাইলের। চিকিৎসক ও নার্সরা তার নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ঘটনার পরপরই আহত ইসমাইলের বাড়িতে খবর পাঠানো হয়েছে। একই সাথে স্থানীয় থানায় বিষয়টি অবহিত করাও হয়েছে বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভূঁইয়া।

তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘আমি নিজেও ইসমাইলের ভাইয়ের সাথে একাধিকবার কথা বলেছি। তারা আসছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই আসেনি’।

ইসমাইল লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানাধীন টুমচর এলাকার আব্দুল গণির ছেলে। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। ইসমাইল দীর্ঘদিন থেকেই নগরীর ফিশারী ঘাটের মান্নান মাঝির বোটে মাছ ধরার কাজ করছেন। রবিবার মান্নান মাঝির শ্যালক ইউসুফ ও তার পরিচিত আরিফকে বাস স্টেশনে পৌঁছে দিতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন ইসমাইল। তার সাথে আহত হয় ইউসুফ ও আরিফ দু’জনেই। বর্তমানে তিনি চমেক হাসপাতালের ক্যাজ্যুয়ালটি ওয়ার্ডের ৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বিকেলে ইসমাইলের সাথে কথা হয় পূর্বকোণের। এ সময় তিনি বলেন, ‘তারা (ইউসুফ ও আরিফ) চট্টগ্রামে বেড়াতে এসেছে। রবিবার সকালে বাড়ি যাওয়ার জন্য সওদাগর (মান্নান মাঝি) আমাকে তাদের গাড়িতে তুলে দিয়ে আসতে বলেন। বাসা থেকে বের হয়ে ওই বিল্ডিংয়ের সামনে আসা মাত্রই বিকট একটি শব্দ হয়। এরপর আর কিছুই মনে নেই। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালে শুয়ে আছি’।
‘বাড়িতে খবর পৌঁছানো হয়েছে। আমি নিজেও সোমবার মোবাইলে কথা বলেছি। বর্তমানে বন্ধুরা আমার সাথে আছে। তাছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সবসময় খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে বলেও জানায় ইসমাইল’।
ক্যাজ্যুয়ালটি ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স কামরুন নাহার পূর্বকোণকে বলেন, ‘আহতদের মধ্যে এই ওয়ার্ডে তিনজনের চিকিৎসা চলছে। দু’জনের স্বজনরা আসলেও ইসমাইল হোসেনের স্বজন এখনো আসেনি। তবে স্বজন না থাকলেও সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি এবং নিয়মিত খোঁজ খবরও নেওয়া হচ্ছে’।

৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে তিশা : একই ঘটনায় আহত তিশা গোমেজের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাকে হাসপাতালের আইসিইউ’র সাত নম্বর বেডে রাখা হয়েছে। তিশা নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আশরাফ আলী রোডের অঠল গোমেজের মেয়ে।

শুধু তিশা বা ইসমাইল নয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় চমেক হাসপাতালে গতকাল সোমবার পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছে আট জন। তবে ঘটনার দিন বিকেলেই অর্পিতা নাথকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে পাঠানো হয়। বাকি সকলেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে আইসিইউতে ৩ জন, ক্যাজ্যুয়ালটি ওয়ার্ডে ৩ জন, ৭৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, ‘নিয়মিতই আহতদের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক ওয়ার্ড ইনচার্জকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। যেন আহত সকলের চিকিৎসা সেবার ঘাটতি না হয়’।

The Post Viewed By: 54 People

সম্পর্কিত পোস্ট