চট্টগ্রাম রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:২২ পূর্বাহ্ন

নরোত্তম বনিক, সন্দ্বীপ

সন্দ্বীপে মাইটভাঙ্গা ইউপি আ.লীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক

সভাপতি পরিবারের ১১ সদস্য কমিটিতে

উপজেলার মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে এলাকাজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সভাপতির পরিবারের ১১ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করাসহ চিহ্নিত বিএনপি ও শিবিরের লোকজন দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। কমিটি প্রকাশিত হওয়ার পর এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে কমিটির বিরোধিতা করে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে পুনরায় কমিটি সংশোধনের দাবি তুলেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকায় নাম রয়েছে সভাপতি দিদারুল আলম দিদারের পরিবারের ১১ সদস্যের। আগে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও কটূক্তি করে স্ট্যাটাস দেয়া শিবির কর্মীকেও রাখা হয়েছে কমিটিতে। একসময়ের বিএনপির ফোরকান বাহিনীর অন্যতম ক্যাডার জাফর এবং মাহামুদুর রহমানের নাম রয়েছে কমিটিতে। গত ২৭ শে অক্টোবর দেশে ছুটিতে আসা কুয়েত স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তৈয়ব আলী সুমনকেও রাখা হয়েছে নতুন এই কমিটিতে। কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম। নতুন কমিটির তালিকায় সদ্য বিলুপ্ত কমিটির দু-একজন সদস্য ছাড়া কাউকে রাখা হয়নি। দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইল সভাপতি দিদারুল আলম দিদার বলেন, সবাইকে কমিটিতে রাখা সম্ভব নয়। যারা আওয়ামী লীগ করে, তাদের রাখা হয়েছে। তবে কমিটিতে জামায়াত-বিএনপি সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। নতুন কমিটি সম্পর্কে অভিযোগ তুলে কমিটির সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে দিদার একটি পক্ষের গুটি হয়ে কাজ করছে। সভাপতি দিদারুল আলম প্রথমে শুধুমাত্র নিজের চিহ্নিত লোকজনকে প্রাথমিক সদস্য করে দীর্ঘদিনের ত্যাগীদের কাউন্সিলের বাইরে রেখেছে। তাদের দিয়ে কাউন্সিল করে ভিন্ন দল থেকে আনা লোকজনকে পদে বসিয়েছে। এরপর শুধুমাত্র তার পক্ষের লোকজনকে কাউন্সিলর বানিয়ে সম্মেলন করে সে সভাপতি হয়েছে। তার পক্ষে আওয়ামী লীগের লোকজন না থাকায় সে জামায়াত শিবির ও বিএনপির লোকজনকে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করিয়েছে। দিদার নিজেও নব্য আওয়ামী লীগ। সে বাসদ এবং বিএনপি করে পরে আওয়ামী লীগার হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলী খসরু বলেন, মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমি সভাপতির সাথে কথা বলব। মাইটভাঙ্গা ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের সময় বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে জেলাতে বেশ কয়েকটি অভিযোগ জানানো হয়েছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা আওয়ামী লীগ উপজেলা আওয়ামী লীগকে বিষয়টি দেখতে নির্দেশনাও দিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভা আহ্বান করে সবার কথা শুনে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন করার নির্দেশনা দেন। কিন্তু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক দিদারুল আলম নির্দেশনা মানেননি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম বলেন, বর্তমানে সবগুলো উপজেলায় কমিটি গঠনের কাজ চলছে। আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বারবার বলেছি বিতর্কিত কোন লোক যাতে কমিটিতে না আসে। যেসব বিতর্কিত ব্যক্তি রয়েছে, তাদের নামের তালিকা নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

The Post Viewed By: 27 People

সম্পর্কিত পোস্ট