চট্টগ্রাম রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:১৭ পূর্বাহ্ন

মো. রফিকুল ইসলাম, লামা

লামা

ব্রিজ ধসিয়েও থেমে নেই বালু উত্তোলন

‘১২ লক্ষ টাকা দিয়ে তিনটি স্পট হতে বালু তোলার ইজারা নিয়েছি। ব্রিজ, কালভার্ট ও খালের পাড় ভেঙে গেলে কী করব’

উপজেলার সরই ইউনিয়নে ব্রিজের নিচ থেকে দিনে দুপুরে তোলা হচ্ছে বালু। বিগত সময়ে বালু তোলার কারণে ইতিমধ্যে ব্রিজের অর্ধেকাংশ ধসে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে আছে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

ব্রিজের ধসে যাওয়া অংশে কাঠের পাটাতন দিয়ে কোনমতে মোটরসাইকেল, রিকশা ও সিএনজিচালিত ট্যাক্সিসহ হালকা যানবাহন চলাচল করছে। ভারী গাড়িগুলো চলাচল করতে না পারায় মালামাল পরিবহন করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে জনসাধারণের। দেড় বছর যাবত ব্রিজের অর্ধেক ধসে পড়ে গেলেও মেরামত ও সংস্কারে এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিত্য চলাচল করছে সাধারণ মানুষ। উপজেলা হতে সরই বাজার হয়ে লোহাগাড়া ও চট্টগ্রামে যাতায়াত সড়কের সরই হাছনাপাড়া এলাকার হরিখালের ওপর ব্রিজটি রয়েছে। সরই ও গজালিয়া ইউনিয়নের লোকজনের একমাত্র চলাচলের রাস্তা এটি। ব্রিজটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। তাছাড়া লামা উপজেলার সাথে পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহরের যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়কটি। সরেজমিনে দেখা যায়, ধসে যাওয়া ব্রিজটির নিচে ২টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে দেদারছে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, লোহাগাড়া উপজেলার এমচর হাট এলাকার জনৈক মামুন ও উপজেলা শ্রমিক লীগ নেতা নুরুল হক নুনুসহ ১০/১২ জনের বিশাল একটি সিন্ডিকেট এই বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত। তারা সকলে প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষতি হচ্ছে দেখেও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাছনা পাড়া এলাকার কয়েকজন বলেন, ব্রিজের এপার লামা আর ওপার হচ্ছে লোহাগাড়া উপজেলা। বালু তোলার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের সবাই জানে। তারপরেও আমরা লামার প্রশাসনের লোকজনকে বললে তারা বলে, বালু লোহাগাড়া অংশ হতে তোলা হচ্ছে। একইভাবে লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনের লোকজনকে বললে উনারা বলেন, এই বিষয়ে লামা উপজেলা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে। দুই উপজেলার কর্তা ব্যক্তিদের উদাসীনতার কারণে বালু তোলা বন্ধ করা যাচ্ছে না। বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা সরকারদলীয় লোকজন ও প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা সরাসরি বাধা দিতে ভয় পায়। আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বালু তোলার কারণে বেশ কয়েকটি ব্রিজ, কালভার্ট, বিস্তীর্ণ ফসলের জমি, খালের পাড় ও রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। এছাড়া সরই ইউনিয়নের হরি খাল ও পুলু খালের আরো ৬/৭টি স্পট হতে বালু তোলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নুরুল হক নুনু বলেন, আমরা সরকার থেকে ইজারা নিয়ে বালু তুলছি। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে তিনটি স্পট হতে বালু তোলার ইজারা নিয়েছি। ব্রিজ, কালভার্ট ও খালের পাড় ভেঙে গেলে আমরা কী করব।

এ বিষয়ে সরই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম সরকার বলেন, বালু তোলার অংশটি লোহাগাড়ায় পড়েছে। আমাদের করার কিছুই নেই। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, খালের ওপার (লোহাগাড়া) হতে বালু তোলার কারণে আমরা কিছু করতে পারছি না। তবে আমি লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পুলিশের ওসির সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি।
এ বিষয়ে জানতে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাওসিফ আহাম্মেদের মুঠোফোনে ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ না করায় ঊনার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

The Post Viewed By: 26 People

সম্পর্কিত পোস্ট