চট্টগ্রাম রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ | ৪:২৪ অপরাহ্ন

সন্দ্বীপ সংবাদদাতা

সভাপতির পরিবারের ১১ সদস্য

মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আ’লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে বিতর্ক

সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে এলাকাজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সভাপতির পরিবারের ১১ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা সহ চিহ্নিত বিএনপি ও শিবিরের লোকজন দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। কমিটি প্রকাশিত হওয়ার পর এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে কমিটির বিরোধিতা করে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে পুনরায় কমিটি সংশোধনের দাবি তুলেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটির তালিকায় দেখা যায়, সভাপতি দিদারুল আলম দিদারের পরিবারের ১১ সদস্যের নাম রয়েছে। আগে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে ও আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে কটুক্তি করে স্টাটাস দেওয়া শিবির কর্মীকেও রাখা হয়েছে কমিটিতে। একসময়ের বিএনপির ফোরকান বাহিনীর চিহ্নিত ক্যাডার জাফর, শিবিরের কর্মী জনি এবং যুবদল নেতা মাহামুদুর রহমানের নাম রয়েছে কমিটিতে। ২৭ শে অক্টোবর দেশে ছুটিতে আসা কুয়েত স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তৈয়ব আলী সুমনকে রাখা হয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের পদে। কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম। নতুন কমিটির তালিকায় সদ্য বিলুপ্ত কমিটির দুএকজন সদস্য ছাড়া কাউকে রাখা হয়নি।

দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইল সভাপতি দিদারুল আলম দিদার বলেন, সবাইকে কমিটিতে রাখা সম্ভব নয়। যারা আওয়ামীলীগ করে তাদের রাখা হয়েছে। তবে জামায়াত বিএনপির থেকে আসা সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

নতুন কমিটি সম্পর্কে অভিযোগ তুলে কমিটির সহসভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে দিদার একটি পক্ষের গুটি হয়ে কাজ করছে। সভাপতি দিদারুল আলম প্রথমে শুধুমাত্র নিজের চিহ্নিত লোকজনকে প্রাথমিক সদস্য করে দীর্ঘদিনের ত্যাগীদের কাউন্সিলের বাইরে রেখেছে। তাদের দিয়ে কাউন্সিল করে ভিন্ন দল থেকে আনা লোকজনকে পদে বসিয়েছে। এরপর শুধুমাত্র তার পক্ষের লোকজনকে কাউন্সিলর বানিয়ে সম্মেলন করে সে সভাপতি হয়েছে। তার পক্ষে আওয়ামীলীগের লোকজন না থাকায় সে জামায়াত শিবির ও বিএনপির লোকজনকে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করিয়েছে। তার স্বেচ্চাচারীতার জন্য ৩ টি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের সময় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। হামলা মামলা ও ভাংচুরের ঘটনাও হয়েছে। দিদার নিজেও নব্য আওয়ামীলীগ। সে বাসদ এবং বিএনপি করে পরে আওয়ামীলীগ হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী খসরু বলেন, মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে অভিযোগ গুলোর বিষয়ে আমি সভাপতির সাথে কথা বলব।

মাইটভাঙ্গা ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার বলেন, মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের সময় বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে জেলাতে বেশ কয়েকটি অভিযোগ জানানো হয়েছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা আওয়ামীলীগ উপজেলা আওয়ামীলীগকে বিষয়টি দেখতে নির্দেশনাও দিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভা আহবান করে সবার কথা শুনে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন করার নির্দেশনা দেন। কিন্ত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক দিদারুল আলম তা নির্দেশনা মানেননি। ফলে তার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজে কাউন্সিলর তালিকায় নাম উঠাতে হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, বর্তমানে সবগুলো উপজেলায় কমিটি গঠনের কাজ চলছে। আমরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে বারবার বলেছি বিতর্কিত কোন লোক যাতে কমিটিতে না আসে। যেসব বিতর্কিত ব্যক্তি রয়েছে তাদের নামের তালিকা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্বকোণ/পিআর

The Post Viewed By: 160 People

সম্পর্কিত পোস্ট