চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:১৯ পূর্বাহ্ন

সেকান্দর আলম বাবর, বোয়ালখালী

আমন কাটার ধুম, ভোরে কাস্তে হাতে ছুটছেন কৃষক

বোয়ালখালী ডিসেম্বরের মধ্যেই কাটা শেষে গোলায় ওঠবে ধান, ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত কৃষক

ক’দিন আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলি’র প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাতে পাকা ধানের গাছগুলো নুয়ে পড়েছে জমিতে। জমির পানি আর কাদায় মিশে একাকার ধানের শীষ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে হয়তো আরো বেশি ধান গোলায় উঠতো কৃষকের। তারপরও কৃষকের চোখেমুখে আনন্দ। বিশ্রাম নেয়ার ফুরসত নেই। বোয়ালখালীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। সোনালি ধানের ডগায় জমা শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে শীত আসন্ন। সন্ধ্যা হতেই চারদিকে জমাট হয়ে নামছে কুয়াশা। সারারাতে ঝরা কুয়াশায় সিক্ত পাকা ধান। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে দল বেঁধে কৃষকেরা কাস্তে হাতে নামছে ধান ক্ষেতে।

বাতাসে এখন শীতের আমেজ। শীতের এই ছোঁয়া কৃষকের মন-প্রাণেও দিয়েছে অন্যরকম আমেজ। শীতের কুয়াশা জমা শিশিরবিন্দু ধানকে হৃষ্টপুষ্ট হতে সহায়তা করছে। রোপা আমনের যেসব ধান একটু বিলম্বে আসে শীতের এই কুয়াশায় এসব ধানেও প্রাণ এনে দিয়েছে। ধানের ভেতরের চাল শক্ত হতে সাহায্য করছে আর পোকামাকড়ের শঙ্কাও কেটে গেছে বলে জানায় কৃষকরা। তবে গেলবার আমনের ভালো দাম না পাওয়ায় এবারও কৃষকরা কিছুটা শঙ্কিত ন্যায্যমূল্য নিয়ে।

উপজেলার কয়েকটি বিল ঘুরে দেখা গেছে, পুরোদমে কৃষকরা আমন ধান কাটায় লেগেছে। কষ্টের ফসল ঘরে তোলার আনন্দে তারা মাতোয়ারা। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ আমন ঘরে তুলেছে কৃষকরা। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আমন পুরোপুরি ঘরে উঠবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌতম চৌধুরী। তিনি বলেন, আমন চাষে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ সহযোগিতা দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। ফলে আমরা আশানুরূপ ফসল ঘরে তুলতে পারছি।

বোয়ালখালী উপজেলায় এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৫ শত হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৪৮০ হেক্টর। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হওয়ায় এবারের আমন ধান ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ।
তিনি জানান, অতিবৃষ্টি, খরা, রোগ-বালাই তেমন একটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি কৃষকের সামনে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। এ বছর আমন চাষে ভালো ফলন হয়েছে।

The Post Viewed By: 34 People

সম্পর্কিত পোস্ট