চট্টগ্রাম রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ | ৬:২৭ অপরাহ্ণ

হাফেজ আরমান হোসেন

বান্দার পরীক্ষা হয় বিপদের মাধ্যমে

 

সাধারণ দৃষ্টিতে বিপদ-আপদ স্বাভাবিক বিষয় মনে হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে আমাদের ঈমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিপদে ফেলার মাধ্যমে আল্লাহ ঈমানদারদের ঈমানের পরীক্ষা গ্রহণ করেন। আবার কখনও বান্দার গুনাহ মাফ করা হয়ে থাকে বিপদের মাধ্যমে। তাই কল্যাণ লাভের একটি মাধ্যম মুমিনের জন্য বিপদ।

বিপদ দিয়ে আল্লাহ বান্দাকে পরীক্ষা করেন। আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন ‘আমিভয়, ক্ষুধা, জানমালের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে তোমাদের অবশ্যই পরীক্ষা করব। তবে তোমাদের মধ্যে যারা ধৈর্যশীল এবং বিপদের সময় ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন’ (অর্থ: নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদের সবাইকে তার নিকট ফিরে যেতে হবে) বলে, তাদের প্রতি রয়েছে বিশেষ অনুগ্রহ ও নেয়ামত মহান রবের পক্ষ থেকে। আর প্রকৃতপক্ষে তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত।’ (সূরা বাকারা : ১৫৫-১৫৭)। অন্য একটি আয়াতে এসেছে, ‘লোকেরা কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ এ কথা বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? যারা তাদের পূর্বে  ছিল আমি তাদের পরীক্ষা করেছিলাম। অতঃপর আল্লাহ অবশ্য জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী আর কারা মিথ্যাবাদী।’ (সূরা আনকাবুত : ১-৩)

বিপদ প্রদানের মাধ্যমে অনেক সময় বান্দার গুনাহ ক্ষমা করা হয়ে থাকে। হাদিসে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন নারী-পুরুষের বিপদ-মুসিবত লেগেই থাকে। তার শারীরিক, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির ব্যাপারে এ বিপদ-মুসিবত হতে পারে। তা আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত  চলতেই থাকে। আর আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তার ওপর গুনাহের কোনো বোঝাই থাকে না।’ (মিশকাত : ১৫৬৭)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘যেসব বিপদাপদ মুসলমানদের ওপর আসে এর দ্বারা আল্লাহ তার পাপ দূর করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে ফুটে এর দ্বারাও।’ (বুখারী : ৫৬৪০; মুসলিম: ৬৪৫৫)। অপর একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিমের ওপর কোনো বিপদ পতিত হলে তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায় সেই বিপদের বিনিময়ে, এমন কি ক্ষুদ্রতর কোনো কাঁটা বিদ্ধ হলেও।’ (মুসলিম : ৬৪৫৯)

এসব বিপদ থেকে দুনিয়ার জীবনে পরিত্রাণও বলে দেয়া হয়েছে। কিছু আমলের মাধ্যমে বান্দা এসব বিপদ থেকে মুক্তি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে লাভ করতে পারে বিশেষ বরকত। হাদিসে এসেছে, হযরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।’ (আবু দাউদ : ১৩১৯)। আল্লাহ তায়ালাও মুমিনদের এমন নির্দেশই দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে, আর তা নিশ্চিতভাবেই আল্লাহভীরু ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের কাছে  কঠিন।’ (সূরা বাকারাহ : ৪৫)

লেখক : শিক্ষার্থী, দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা, ডেমরা, ঢাকা

পূর্বকোণ/রাশেদ

 

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 693 People

সম্পর্কিত পোস্ট