চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:২৮ পূর্বাহ্ন

ইমরান বিন ছবুর

পেঁয়াজের ডাবল সেঞ্চুরি!

সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ অনেক মুদি দোকানে কেনাবেচা বন্ধ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে অনেকে সরকারের ভুল সিদ্ধান্তকেই দোষারোপ

অবশেষে ডাবল সেঞ্চুরি! নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ২০০ টাকায়। এছাড়া তুরস্ক, চায়না, মিশর ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের মূল্য রেকর্ড করায় খুচরা বাজারের অনেক মুদি দোকানে গিয়েও দেখা মিলেনি পেঁয়াজের। এর কারণ জানতে চাইলে দোকানদাররা জানান, অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজ কেনাবেচা বন্ধ রেখেছেন তারা।

নগরীর বৃহৎ পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তদারের কথা বলে জানা যায়, তুরস্কের পেঁয়াজ পাইকারী দামে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিশর এবং চায়নার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। তবে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা থেকে ১৫৫ টাকায়। ছোট-বড় ও ফ্রেশ-বাসি হিসাব অনুযায়ী এসব পেঁয়াজের দামের পার্থক্য রয়েছে। মিয়ানমারের পেঁয়াজের অর্ধেক পচা থাকে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি মো. সোলাইমান বাদশা দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম পেঁয়াজের বাজার ২০০ টাকা ক্রস করবে। এখন খুচরা বাজারে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। কয়েকদিনের মধ্যে পাইকারী বাজারে কি অবস্থা হবে তা বুঝা যাচ্ছে না।

টেকনাফসহ চট্টগ্রামের অনেক ব্যবসায়ীকে প্রশাসন হয়রানি করেছে। ফলে অনেক আমদানিকারক পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে পেঁয়াজের বাজার কিছুটা অস্থিতিশীল হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বন্দরে জাহাজ ভিড়তে পারেনি। যেসব জাহাজ ভিড়েছিল সেগুলোকে আবার বাইরে চলে যেতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকার কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চাইলে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) কাজে লাগাতে পারতো। কিন্তু সরকার তা করেনি। চাহিদার তুলনায় পণ্য কম হলে দাম তো বাড়বেই। সরকার পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ৮০ টাকায়। তাই ব্যবসায়ীরা ১৮০ টাকায় বিক্রি করলেও স্লিপ দিচ্ছে ৮০ টাকার। তাই তারা অপরিচিত কারো কাছে পেঁয়াজ বিক্রি করছে না। পেঁয়াজের বাজার কোথায় গিয়ে থামবে তা কেউ বলতে পারছে না।

এ সম্পর্কে খাতুনগঞ্জের মো. ফিরোজ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বেনাপোল, সাতক্ষীরার ঘোমড়া, চাপাই নবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ এবং দিনাজপুরের হিলি দিয়ে দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ গাড়ি পেঁয়াজ আসতো। এখন সেখানে দৈনিক পেঁয়াজ আসছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ গাড়ি। যা চাহিদার চেয়ে অনেক কম।’

তিনি আরো জানান, বর্তমানে চাহিদার তিন ভাগের এক ভাগও পেঁয়াজ আসছে না। ফলে প্রতিদিন দাম বাড়ছে। এছাড়া, মিয়ানমার থেকে যেসব পেঁয়াজ আসছে, তার ৫০ শতাংশই পচা।

বাকলিয়ার মুদির দোকানদার মো. ইসা খান বলেন, ‘গত তিন থেকে চারদিন পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রেখেছিলাম। কিছু নিয়মিত কাস্টমার পেঁয়াজ খোঁজায় বৃহস্পতিবার কিছু পেঁয়াজ আনতে পাইকারী বাজারেই দেখি প্রতিকেজি পেঁয়াজের ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে কিছু পঁচা পেঁয়াজও রয়েছে। এতো দামে পেঁয়াজ কিনে আমরা খুচরা বাজারে তা কত টাকা বিক্রি করবো। এরপরও আজ অল্প পেঁয়াজ এনেছি।’
এ সময় খুচরা বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মাশুক বাবু নামের এক শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে জানান, গত কয়েকদিন আগে ১২০ টাকায় এককেজি পেঁয়াজ কিনে ছিলাম। আজ ১২০ টাকা দিয়ে পেঁয়াজ কিনতে এসে দেখি দাম এমন বেড়েছে, মনে হচ্ছে এক কেজির টাকা দিয়ে আধা কেজি নিয়ে যেতে হবে।

এছাড়া পেঁয়াজের পাশাপাশি আদার দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাইকারি বাজারে আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকা থেকে ১৬০ টাকায়। গত সপ্তাহে আদার দাম ছিল ১৩৫-১৪০ টাকার মধ্যে। মাঝখানে যা বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকায়। এখন আবার দাম কিছুটা কমেছে বলে জানান পাইকাররা।

The Post Viewed By: 116 People

সম্পর্কিত পোস্ট