চট্টগ্রাম শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:১১ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা হ সীতাকু-

ইলেকশন-সিলেকশন নিয়ে মতানৈক্য

মুরাদপুর আ. লীগের কাউন্সিলে হামলা ভোটগ্রহণ প-

সীতাকু-ে মুরাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল-২০১৯ চলাকালে হামলা চালিয়ে চেয়ার ভাঙচুর করেছে একদল যুবক। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ প- হয়ে যায়। স্থানীয় চেয়ারম্যানের অভিযোগ, তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোট প্রদানের সুযোগ না দিয়ে সিলেকশনের মাধ্যমে প্রার্থী বিজয়ী করতে একটি পক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীতাকু-ের বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের কাউন্সিলের

ধারাবাহিকতায় গতকাল (বৃহস্পতিবার) উপজেলার মুরাদপুর ক্যাপ্টেন শামছুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কাউন্সিল করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়। এ নির্বাচনে মুরাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন বর্তমান সভাপতি মো. খুরশীদ আলম ও মো. জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহেদ হোসেন নিজামী বাবু, আবুল কালাম আজাদ মেম্বার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাবউদ্দিন, মো. মছিউরও জয়নাল আবেদীন।
কাউন্সিল উপলক্ষে প্রার্থীরা ছাড়াও উপজেলা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা যথাসময়ে উপস্থিত হন। এদিকে এখানে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে দুটি পর্বে ভাগ করে প্রথম পর্বে আলোচনা ও দ্বিতীয় পর্বে ভোট অনুষ্ঠিত করার কথা হয়। প্রথমপর্বে আলোচনা শুরু হলে একটি পক্ষ শুরু থেকেই সিলেকশনের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য দাবি জানাতে থাকে। অপরদিকে আরেকটি পক্ষ সিলেকশনের বিরোধিতা করে তৃণমূল ভোটের মাধ্যমেই প্রার্থী নির্বাচনের দাবি জানাতে থাকে। এভাবে পরস্পর বিরোধী অবস্থানের মধ্যে মাগরিবের নামাজের আগ মুহূূর্তে সভাস্থলে চেয়ার মারামারি শুরু হয়ে গেলে সভাস্থলে উপস্থিত সীতাকু- থানা পুলিশ তৎপর হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এসময় নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্কুলের একটি কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে বৈঠক হলেও শেষ পর্যন্ত উত্তেজনার মুখে ভোটগ্রহণ প- হয়ে যায়।

এদিকে এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং একই পদের বর্তমান প্রার্থী জাহেদ হোসেন নিজামী বাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটের মাধ্যমেই নেতা নির্বাচিত করতে। কিন্তু আমাদের মুরাদপুরের ক্ষেত্রে কতিপয় প্রভাবশালী নেতাকর্মী জোরপূর্বক সিলেকশনে নির্বাচিত করার পরিকল্পনা করেন। তারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে চেয়ার মারামারি করে গ-গোল সৃষ্টি করে নির্বাচন প- করেছে’।

এ বিষয়ে জানতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় এমপি আলহাজ দিদারুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া ও উপজেলা নির্বাচনে উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষে সমন্বয়কারী এডভোকেট ফকরুদ্দিনের কাছে ফোন করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। তবে সেখানে হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন সীতাকু- থানার ওসি (ইন্টেলিজেন্স) সুমন বণিক। তিনি বলেন, ‘এমপি মহোদয় চেয়েছিলেন তৃণমূল ভোট, অপর দকে থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়েছিলেন সিলেকশনের মাধ্যমে নির্বাচন করা হোক। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শেষে একপক্ষ চেয়ার মারামারি শুরু করে। আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেও ভোটগ্রহণ আর হয়নি। শুনেছি পরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে’।

The Post Viewed By: 43 People

সম্পর্কিত পোস্ট