চট্টগ্রাম রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:০৯ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব সপ্তাহের ব্যবধানে ফুলকপির দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

প্রকৃতিতে শীতের অনুভূতি শুরু হলেও দাম কমছে না শীতকালীন সবজির। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজির খেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই বাজারে সবজির সরবরাহ কম। আড়তদাররাও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে সবজি। কাল বাজারে কিছু সবজি বিক্রি হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ দামে। এক কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকায়।

কিন্তু সাতদিন আগেও এক কেজি ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। তবে অপরিবর্তিত আছে মাছ ও মুরগির দাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর চকবাজারের কয়েকজন সবজি বিক্রেতা জানান, ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ কম। তাই রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদাররা বেশি দামে বিক্রি করছে সবজি। আড়ত থেকে কিনে এখানে আমরা অল্প লাভে সবজি বিক্রি করছি। কারণ সেখান থেকে সবজি আনতে আমাদের বিভিন্ন রকম খরচ হয়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৪০ টাকার কাঁচামরিচ দাম বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। শিম ১শ’ টাকা থেকে বেড়ে ১১০ টাকায়, মুলা ৪০ টাকায়, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২৩ টাকায়, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, টমেটো ৮০ থেকে ১শ’ টাকায়, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৬০ টাকায়, ঝিঙা ৪০ থেকে ৬০ টাকায়, ধুন্দল ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, ঢেঁড়শ ৫০ টাকায়, নতুন শসা ৩০ থেকে ৫০ টাকায়, তিতকরলা ৬০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়ো ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি সবজিতে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা করে দাম বেড়েছে। ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, শীত আসছে তবুও সবজির দাম কমছে না। মাঝখানে কিছুদিন দাম কম কমলেও ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে আবার বেড়েছে সবজির দাম। সারাবছরই বেশি দামে সবজি কিনে খাই। তবে এখন একটু দাম কমা উচিত।

গত সপ্তাহের মতই অপরিবর্তিত আছে মাছের বাজার। মিঠা পানির মাছের পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছও আছে বাজারে। তবে ক্রেতাদের মতে এখনো পর্যাপ্ত দাম কমেনি মাছের। দাম কমেনি ইলিশ মাছেরও। দেশি মাছগুলোর মধ্যে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকায়। কাতল বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ টাকা দরে। তেলাপিয়া ১৮০ টাকা, ফার্মের কৈ মাছ ৩শ’ টাকা। কেচকি, মলাঢেলা জাতীয় ছোটমাছগুলো ৩শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পুকুরের ছোট চিংড়িগুলো ৪শ’ টাকা, সরপুটি আড়াইশ’ থেকে ৩শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ ৬শ’ গ্রাম প্রায় ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে রূপচাঁদা ৬শ’ টাকা, লাল কোরাল ৫শ’ টাকা ও চিংড়ি সাইজ অনুযায়ী ৪০০ থেকে ৪৫০, ৫০০ ও ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ী কাশেম মিয়া বলেন, এখনো চাহিদা অনুযায়ী সাগরের মাছ আসছে না। তবে মিঠা পানির মাছের পাশাপাশি কিছু ইলিশ, কোরাল, লইট্টা মাছ আসছে। মাছের দাম গত সপ্তাহের মত অপরিবর্তিত আছে।

অপরিবর্তিত আছে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির দাম। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪০০ থেকে সাড়ে ৪শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, মুরগির দাম কিছুদিন পর বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। সামনে আসছে বিয়ের মওসুম। এ মওসুমে মুরগির দাম বৃদ্ধি পায়। তবে এখনো পর্যন্ত অপরিবর্তিত আছে দাম।
অপরিবর্তিত আছে গরু ও ছাগলের মাংস। হাড়ছাড়া গরুর মাংস ৭০০ টাকা, হাড়সহ ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের মাংস কেজি ৭০০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

The Post Viewed By: 74 People

সম্পর্কিত পোস্ট