চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ | ১:৩২ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গায় অবৈধ ভবন

নগরীর লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি ছাড়া নালা ও বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে তৈরি করা হয়েছে দোতলা মার্কেট। দীর্ঘদিন ধরে সেই মার্কেটের পাঁচটি দোকান ও কিছু ব্যাচেলর বাসা ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করছে এলাকার প্রভাবশালী মহল। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, আট বছর আগে সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি ছাড়া এখানে নালা ও বিদ্যালয়ের কিছু জায়গা দখল করে এ দোতলা মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। পরে ভবনের নিচতলায় পাঁচটি দোকান ও উপরে তিনটি ব্যাচেলর রুম ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, ২০১১ সালে ভবনটি তৈরি করা হয় লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে। লালখান বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় কিছু অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভাড়ার টাকা দিয়ে সেই অস্থায়ী শিক্ষকদের বেতন দিতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১১ সালে থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেই অস্থায়ী শিক্ষকদের বেতন দোকান ভাড়া থেকে দেয়া হতো। কিন্তু গত পাঁচ বছর যাবত ভাড়ার টাকা আর দিচ্ছে না প্রভাবশালী মহলটি। এতে বেতন পাচ্ছে না অস্থায়ী শিক্ষকরা। প্রভাব খাটিয়ে দোকান ভাড়ার টাকাগুলো এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়ে নিচ্ছে। তখন ভবনটি নির্মাণে সিটি কর্পোরেশনের কোনো অনুমতি ছিল না। তবুও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের কথা চিন্তা করে মেনে নিয়েছে।

এ বিষয় লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদ ইকবাল পারভেজ বলেন, পাঁচটি দোকানের কোনো টাকাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পায় না। দোকানগুলো বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে করা হয়নি। আমাদের অস্থায়ী শিক্ষকদের বেতন দেয় ফোর্টিস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শাহাদাত হোসেন। এর বাইরে অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা করেন।

এ বিষয়ে লালখান বাজার এলাকার কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ মানিক বলেন, আমি ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত লালখান বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় কমিটির দায়িত্বে ছিলাম। তখন দোকানের ভাড়ার টাকায় অস্থায়ী শিক্ষকদের বেতন দিয়েছি। এখন আমি বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে নেই। তাই এ টাকা দেয়া আমার দায়িত্বে পড়ে না। তবে বর্তমানে এই দোকানের ভাড়ার টাকা কারা নেয় তা আমি বলতে পারবো না।

The Post Viewed By: 48 People

সম্পর্কিত পোস্ট