চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ | ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

পেঁয়াজ ব্যবসায় অস্বাভাবিক মুনাফা

ভারত রপ্তানি বন্ধ করার পর বাংলাদেশে পেঁয়াজ সংকট দেখা দেয়। আর এ সংকট কাজে লাগিয়ে কিছু আমদানিকারক, সিএন্ডএফ ও পাইকার মিলে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। আমদানি মূল্য ১৭ থেকে ৪৪ টাকা হলেও তা পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা করে। ৩৬ দিনে (১ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর) সারা দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ৩৮ হাজার মেট্রিক টন, যার আমদানি মূল্য ১৯০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এতে কেজিপ্রতি গড় মূল্য পড়ে ৫০ টাকা। ২২১ আমদানিকারক ৬৭৭ চালানের মাধ্যমে এসব পেঁয়াজ আমদানি করেন।

বর্তমানে সারা দেশে সাতটি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। এর মধ্যে সর্বাধিক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে।

তারপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমদানি হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। মিসর, তুরস্ক, ইরান, চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকে এ পথে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। তবে সোনামসজিদ, হিলি, বেনাপোল কাস্টম হাউস ও ভোমরা বন্দর দিয়ে আগের মতো আমদানি নেই। পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ আছে বুড়িমারী স্থলবন্দরেও।

সামান্য কিছু ঢাকা কাস্টম হাউস দিয়ে আমদানি হলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়।তথ্যমতে, ২৮ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে। মূলত তারপর থেকেই বাংলাদেশে পেঁয়াজ সংকট দেখা দেয়। ভারত থেকে পাঁচটি শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে স্থলপথে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি হতো। কিন্তু রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর ওইসব স্টেশনে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ শূন্যের কোঠায় চলে আসে। সামান্য কিছু ভারত থেকে আমদানি হলেও তার জন্য চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। গত দেড় মাসে সোনামসজিদ, হিলি, ভোমরা ও বেনাপোল কাস্টম হাউস দিয়ে আট হাজার ৮৮৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। এর প্রতি কেজির মূল্য পড়েছে ৭৩ থেকে ৭৪ টাকা করে। আর এসব পেঁয়াজ ৫১ আমদানিকারক মিলে আমদানি করেন। তবে কয়েকজনের মাধ্যমেই অধিকাংশ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।অপরদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে দেশে মোট পেঁয়াজ আমদানির প্রায় ৬২ শতাংশ এসেছে। গত ৩৬ দিনে ২৩ হাজার ৫৮০ টন আমদানি হয়েছে এ বন্দর দিয়ে। এর আমদানি মূল্য ১০২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এতে প্রতি কেজির আমদানি মূল্য পড়েছ ৪৩ টাকা ৫১ পয়সা। ১২৯ আমদানিকারক এসব পেঁয়াজ আমদানি করেন। তবে ২৫ থেকে ২৬ আমদানিকারকই বেশিরভাগ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করছে। মেসার্স বেঙ্গল ট্রেডার্সের কর্ণধার উত্তম কুমার সাহা বলেন, চাহিদা অনুপাতে পেঁয়াজ আসছে না। যে কয়েক ট্রাক পেঁয়াজ আসছে, সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে দাম কমছে না।

The Post Viewed By: 46 People

সম্পর্কিত পোস্ট