চট্টগ্রাম বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

১০ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার

মহাবিপদ সংকেতেও ফাঁকা ২২ আশ্রয়কেন্দ্র!

স্পট পতেঙ্গা

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করছিল ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। তবে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস তাদের পূর্বাভাসে বলেছিল সন্ধ্যা নাগাদই ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার বেগে বাংলাদেশে আঘাত হানবে ‘বুলবুল’। একসাথে ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার এলাকায় তা-ব চালাবে ঘূর্ণিঝড়টি। তাই সকালেই ৬ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলে আবহাওয়া অফিস। এরপরই উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরতদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং শুরু করে প্রশাসন। বিশেষ করে ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পতেঙ্গার সাগরপাড়ে বসবাসরতদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে একাধিকবার মাইকিং করে সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয় থানা পুলিশের সদস্যরা। তারপরেও নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো যায়নি বেড়িবাঁধে বসবাসরতদের। অথচ শুক্রবার থেকেই এখানকার উপকূলীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র।

উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের হাত থেকে নগর রক্ষায় যে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে তার পাশ ঘিরেই টিন আর বাঁশ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সারি সারি ঘর। সমুদ্রের সাথে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন মূলত তারাই বসবাস করেন এসব ঘরগুলোতে। হয়তো সমুদ্রের বুকে সংগ্রাম করতে করতে এখানকার বাসিন্দারা ভুলেই গেছেন যে এই সমুদ্রই ১৯৯১ সালে ছিল হাজারো মানুষের মৃত্যুর কারণ। সচেতনতা এবং আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে প্রলয়ঙ্করী সেই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন এই পতেঙ্গা উপকূলের বাসিন্দারা। আর এ ঘটনার পর এ উপকূল ঘিরে বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সচেতনতার অভাবে এখনো তা ব্যবহার করছেন না এই এলাকার বাসিন্দারা। এমনকি ঘূর্ণিঝড়ে সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে থাকা বেড়িবাঁধবাসীও যায়নি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে।

গতকাল নগরীর ইপিজেড পতেঙ্গা এলাকার সমুদ্রপাড়ের বাঁধগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, বেড়িবাঁধ ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে একাধিকবার মাইকিং করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দুর্যোগ মোকাবেলার লক্ষ্যে করা প্রশাসনের এ মাইকিং যেনো কানেই নেননি এই এলাকার বাসিন্দারা। যার ফলে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ গতকাল মধ্যরাতে আঘাত হানার কথা থাকলেও রাত পর্যন্ত খালি ছিলো এই এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো।
এ সময় বেড়িবাঁধে বসবাসরত কয়েকজনের কাছে নিরাপাদ আশ্রয়কেন্দ্রে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, ‘এখন আর আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া লাগে না। বেড়িবাঁধের পাশেই অনেক বড় বড় বিল্ডিং আছে। যেগুলো আশ্রয়কেন্দ্রের থেকেও বড়। বাতাস শুরু হইলে দৌঁড়াইয়া সেখানে চইলা যামু। কোনো সমস্যা নাই। তাছাড়া এটাতো শুনছি সুন্দরবনের দিকে আঘাত হানবে। তাই আশ্রয়কেন্দ্রে যাই নাই। আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে ঘর চুরি হওয়ারও আশংকা থাকে। যদি যেতেও হয় তাহলে ঘরের মেয়েদেরকে পাঠাই দিয়া একজন কইরা পুরুষ ঘরে থাকমু। এখন আর ৯১ এর মত ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন পূর্বকোণকে বলেন, ‘আজ (গতকাল শনিবার) সকাল থেকে আকমল আলী রোডস্থ বেড়িবাঁধ এলাকায় আমরা বেশ কয়েকবার মাইকিং করেছি এবং উপকূলে বসবাসরতদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে অনুরোধ করেছি। তবে এখানকার বাসিন্দারা আমাদের কোনো কথাই শুনেননি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাতাসের বেগ বাড়লে পুলিশের সহায়তায় তাদেরকে নিরাপাদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে বাধ্য করবো। তা না হলে প্রাণহানির মতো বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে’।
তবে ৪০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন জানান তার ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রের একটিতে এক বৃদ্ধ মহিলা আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে বেশ কয়েকবার মাইকিং করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। বড় বড় ভবন তৈরি হওয়ায় মানুষের মাঝে এখন আর ঘূর্ণিঝড়ের ভয় নেই।’

The Post Viewed By: 51 People

সম্পর্কিত পোস্ট