চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৯ নভেম্বর, ২০১৯ | ৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মোকাবিলায় প্রস্তুত চট্টগ্রাম

কন্ট্রোল রুম চালু জেলা প্রশাসন, চসিক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিএমপির প্রস্তুতি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সরকারি সেবা সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন এ প্রস্তুতির কথা জানান।
কমিটির সভায় তিনি জানান, আমাদের ৪৭৯টি আশ্রয় কেন্দ্র, ২ হাজার ২৭৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ২৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী রাখার জন্য প্রস্তুত রেখেছি। এছাড়া, সম্ভাব্য দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অধিদপ্তরের বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ, ৩৪৯ মেট্রিক টন জিআর চাল, ৬৮১ বান্ডেল ঢেউটিন, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ৫০০ তাঁবু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে (০৩১-৬১১৫৪৫ ও ০১৭০০-৭১৬৬৯১ নম্বরে) যোগাযোগের অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক।

সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় ২৮৪টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে এবং পর্যাপ্ত ওষুধ ও খাওয়া সেলাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে ১টি, প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫টি এবং নগরীতে ৯টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন জেলা ও উপজেলার সব ডাক্তার, নার্স এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জেলা মেডিকেল কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর ০৩১-৬৩৪৮৪৩) চালু করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধকরণ টেবলেট, হাইজিন কিট্স এবং টিউবওয়েল সচল রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবং তারা এগুলো সচল রেখেছে। ফায়ার সার্ভিসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে যাতে তাদের উদ্ধার টিমসহ সবকিছু যাতে প্রস্তুত রাখে। এছাড়া, সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে আমরা যোগাযোগ করছি।

উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সকল হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ১৯টি এম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। রেডক্রিসেন্টের ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও বিএনসিসি ও স্কাউটের স্বেচ্ছা সেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চট্টগ্রামের কুমিরা ঘাট হতে সন্দ্বীপ ও হাতিয়ায় নৌ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আরো বলা হয়, জেলা প্রাণী কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় প্রাণী সম্পদ রক্ষা এবং খাবার মজুদ ও সংরক্ষণ এবং পশুপাখি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার যে আশ্রয়স্থল রয়েছে, সেগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জনগণ তাদের গবাদিপশু সেখানে রাখতে পারে।
জেলা উপজেলায় সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে শিশু, নারী, গর্ভবতী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধীকার ভিত্তিতে তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সময়ে শুকনো খাবার কিনার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নগদ টাকা প্রদান করা হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে আমরা মনিটরিং কার্যক্রম আরো বেগবান করা হচ্ছে। গতকাল জুমার নামাজের সময় এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য সকলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়।
সিটি কর্পোরেশন : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানার আশঙ্কায় নগরবাসীর যে কোনো সেবা দানের জন্য সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খুলেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। গতকাল শুক্রবার সকালে চীন থেকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নির্দেশে কন্ট্রোল রুম চালু করে চসিক। উল্লেখ্য, সিটি মেয়র প্রতিষ্ঠানিক কাজে চীনে অবস্থান করছেন। ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত যে কোন তথ্য ও সহযোগিতার প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য চসিকের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে। চসিক’র কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্ব^রগুলো হলো- ০৩১-৬৩০৭৩৯, ০৩১-৬৩৩৬৪৯।

দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে উপকূলবাসীকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। উপকূলীয় জনসাধারণকে সরিয়ে আনা এবং দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখার কাজে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীগণ, চসিক এর শ্রমিক ও পর্যাপ্ত গাড়ি প্রস্তুত রয়েছে। চসিকের পক্ষ থেকে উপকূলীয় এবং পাহাড়ের তলদেশে অবস্থানরত জনসাধারণের মাঝে সচেতনতার জন্য মাইকিং কার্যক্রমসহ দুর্যোগপরবর্তী সময়ের জন্য শুকনো খাবার, পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবাদানের জন্য মেডিকেল টিম ও পর্যাপ্ত ওষুধপত্র প্রস্তুত রেখেছে চসিক। এছাড়াও দুর্যোগ পূর্ববর্তী, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগপরবর্তী সময়ে অবস্থানের জন্য উপকূলীয় এলাকায় চসিক পরিচালিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বদা খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সার্বিক পরিস্থিতি ও কন্ট্রোলরুমে তদারকি করছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী। এই উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিকেলে চসিক দামপাড়াস্থ বিদ্যুৎ অফিসে ভারপ্রাপ্ত মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সিএমপির নির্দেশনা : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় দামপাড়াসহ সিএমপির সদর দপ্তরে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এ সংক্রান্তে জনসাধারণের পাশে থেকে দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জসহ সকল স্তরের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নিম্নোক্ত টেলিফোন ও মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হলো। ০১৬৭৬-১২৩৪৫৬, ০১৬৭৯-১২৩৪৫৬, ০৩১-৬৩৯০২২, ০৩১-৬৩০৩৫২

The Post Viewed By: 61 People

সম্পর্কিত পোস্ট