চট্টগ্রাম বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

৯ নভেম্বর, ২০১৯ | ৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্দরে এলার্ট-৩ জারি বন্ধ পণ্য উঠা-নামা

ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু

ধেয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। এটি গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সমুদ্রন্দর থেকে ৬২০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এতে সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ৬ নম্বর সংকেত দেখাতে বলায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণভাবে ‘এলার্ট-৩ জারি’ করেছে। ‘এলার্ট-৩ জারি’ করার পর থেকে বন্দরের মূল জেটিতে বন্ধ রাখা হয়েছে কনটেইনার হ্যান্ডলিং।

এর আগে দুপুরে বহির্নোঙরে (সাগরে) বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাসের পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে বন্দরে জাহাজের প্রবেশ। বন্দরে নোঙর করা ১৮ টি জাহাজের বাইরেও বহির্নোঙরে ছিল ১৪৯টি জাহাজ। আউটারে অপেক্ষারত জাহাজগুলোর মধ্যে বন্দরে প্রবেশ করবে ১৬টি। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে অপেক্ষারত জাহাজগুলোকে বন্দরে নোঙর করতে দেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ। গতকাল (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে ৩ টায় বন্দর ভবনে ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সর্তক সংকেত ৪ জারি হওয়ার সাথে সাথে বন্দরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণভাবে ‘এলার্ট-২ জারি’ করেছে। এরই সাথে দুপুর থেকে বহির্নোঙরে (সাগরে) বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাসের পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে বন্দরে জাহাজের প্রবেশ। আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্তক সংকেত ৫ জারি করলেই চট্টগ্রাম বন্দরে অভ্যন্তরীণভাবে ‘এলার্ট-৩ জারি’ হয়ে যাবে। ‘এলার্ট-৩ জারি’ হওয়ার সাথে সাথে বন্দরে পণ্য উঠা-নামা বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া কর্ণফুলী নদীর বন্দর চ্যানেলে অবস্থানরত অভ্যন্তরীণ জাহাজ ও ছোট ছোট নৌযানগুলো শাহ আমানত সেতুর উজানে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বহির্নোঙরে (সাগরে) অবস্থানরত বড় জাহাজগুলো ক্রমান্বয়ে কুতুবদিয়া ও কক্সবাজার উপকূলে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব বড় জাহাজের ইঞ্জিন সার্বক্ষণিক চালু রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে’।

বন্দর সূত্র জানায়, আজ (শনিবার) বন্দরের মূল জেটিতে অবস্থানরত জাহাজগুলো বহির্নোঙরে সরিয়ে নেওয়া হবে। এর আগেই সব কি গ্যান্ট্রি ক্রেন, রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ অন্যান্য হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট প্যাকিং করা হবে। ঝড়ো হাওয়ায় যাতে কনটেইনার পড়ে পণ্যের ক্ষয়-ক্ষতি না হয় সে লক্ষ্যে একটির ওপর কয়েকটি রাখা কনটেইনার নামিয়ে রাখা হবে। বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম ইতিমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক পূর্বকোণকে জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘সাইক্লোন ডিজেস্টার প্রিপার্ডনেস এন্ড পোর্ট সাইক্লোন রিহ্যাবিলেটেশন প্ল্যান ১৯৯২ অনুযায়ী বন্দর চেয়ারম্যান নিজস্ব এলার্ট-৩ জারি করেছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর ৫-৭ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখালে এলার্ট-৩ জারি হয়ে যায়। বন্দর চ্যানেল, বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি জাহাজ, মূল জেটি ও টার্মিনালের কার্গো, কনটেইনার, হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট রক্ষায় বন্দর কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট রয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানলে যাতে ক্ষয়-ক্ষতি কমানো যায় সে লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে। নৌ-বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর হচ্ছে ০৩১-৭২৬৯১৬। বন্দরের অন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরগুলো হচ্ছে ০৩১-২৫১৭৭১১, ০৩১-২৫১০৮৬৬ ও ০৩১- ২৫১০৮৬৯।

The Post Viewed By: 99 People

সম্পর্কিত পোস্ট