চট্টগ্রাম শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৮ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:০৬ পূর্বাহ্ন

চেইনম্যান নজরুলসহ গ্রেপ্তার দুই

২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান বর্তমান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। অভিযানে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় চেইনম্যান নজরুল ইসলামসহ তিনজনকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়। পরে এই নজরুল ইসলামকে সংযুক্ত করা হয় ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদে। কিন্তু এই শাস্তির পরেও নিজেকে বদলাননি নজরুল।

অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগদ সাড়ে সাত লাখ টাকা এবং প্রায় এক কোটি টাকার কমিশনের চেকসহ দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক তাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় জেলা প্রশাসনের অফিস সহায়ক তছলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে দুদক। নগরীর চিটাগাং শপিং কপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার আনুকা ফ্যাশন হাউস থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় দোকানের পেছনে বিশেষ কৌশলে তৈরি করা একটি কক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার বিপুল নথি-পত্রও উদ্ধার করে দুদক।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

জেলা প্রশাসনের ভূমি অফিসের টাকা এই আনুকা ফ্যাশনে লেনদেন হয় এমন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ ও উপ-সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেয় দুদকের দশ কর্মকর্তা। প্রায় কয়েক ঘণ্টার এই অভিযানে আনুকা ফ্যাশন থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জমা দেয়া শত শত ফাইল উদ্ধার করা হয়।
দুদক কর্মকর্তারা ধারণা করছেন এসব টাকা সীতাকু-ের ফৌজদারহাট-মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটারের নতুন গ্যাস লাইন স্থাপনের জন্য সরকারিভাবে ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কমিশনের। যা নজরুল ইসলামসহ সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাধ্য হয়ে আদায় করেন। মধ্যম সারির শো-রুমটি কয়েকজন কর্মচারি থাকলেও তারাও এলএ শাখার ফাইলের কাজ করেন।
এদিকে দুদকের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী তছলিম উদ্দিনকে তল্লাশি করে তাঁর পকেট থেকে ৫৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে তসলিম দাবি করেন তিনি কাপড় কিনতে সেখানে এসেছেন। কিন্তু দুদকের কর্মকর্তারা জানান এই তসলিমও চক্রের সদস্য।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ পূর্বকোণকে বলেন, তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা ও প্রায় এক কোটি টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে। চেইনম্যান নজরুলসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার বহু ফাইল। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে এসব টাকা ও চেকের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের হাতে থাকা অবস্থায় নজরুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন,‘ এগুলো আমার নয়। তারা (ক্ষতিগ্রস্ত) তা রেখে গেছেন। আমি এখনো খুলেও দেখিনি’। মাত্র চেইম্যান হয়ে তিন দোকানের মালিক কিভাবে হল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কি ফকিরের ছেলে? আমার বাড়িতে অনেক জায়গা রয়েছে। এছাড়া বাপের থেকেও অনেক সম্পত্তি পেয়েছি। তা দিয়েই এসব কিনেছি’।

The Post Viewed By: 58 People

সম্পর্কিত পোস্ট