চট্টগ্রাম শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৮ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:৫১ পূর্বাহ্ন

পূর্বকোণ প্রতিনিধি হ রাঙামাটি অফিস

কঠিন চীবর দানোৎসবে রাজবন বিহারে পুণ্যার্থীর ঢল রাঙামাটিতে

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসবকে ঘিরে রাঙামাটির রাজবন বিহারে আগমন করেছে হাজার হাজার পুণ্যার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এ বৌদ্ধধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চীবর (গেরুয়া বস্ত্র) তৈরি শেষ করে তা দান করার মধ্য দিয়ে এ মহাপুণ্যাযজ্ঞ শেষ হবে আজ শুক্রবার। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পুণ্যার্থীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে বেইনঘর উদ্বোধন করেছেন, মহাপরিনির্বাণলাভী বৌদ্ধ আর্যপুরুষ সর্বজনপূজ্য সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের

উত্তরসুরী প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবিরসহ অন্য শিষ্যম-লী। এরপর চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ফিতা কেটে বেইনঘরে বুনন এবং চরকায় সুতা কাটা উদ্বোধন করেন। এসময় রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ানসহ অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি নিরূপা দেওয়ান, সহসভাপতি প্রকৌশলী দীপক খীসা, সাধারণ সম্পাদক অমিয় খীসা, ধর্ম রতন চাকমা, এডভোকেট সুস্মিতা চাকমা, বনানী দেওয়ানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। রাজবন বিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছরেরও আগে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা মহাপুণ্যবতী বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে রাজবন বিহারে এবার ৪৬তম কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেবাশীষ রায় বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রতি বছর লাখো মানুষের সমাগম ঘটে রাজবন বিহারে। অনুষ্ঠান যাতে সুষ্ঠু ও শান্তি-শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে শেষ হতে পারে সেজন্য সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। দেবাশীষ বলেন, পরমপূজ্য বনভান্তের স্বর্গীয় অনুভূতি থেকে সর্বপ্রথম ১৯৭৩ সালে রাজবন বিহারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা বের করে বুনন, রংকরণ ও সেলাইসহ কাপড় তৈরি শেষে দানকার্য সম্পাদন করা হয়। একমাত্র বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজবন বিহার এবং শাখা বন বিহার ছাড়া বিশ্বে আর কোথাও বিশাখা প্রবর্তিত হাজার বছরের নিয়মে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এ মহাপুণ্যাযজ্ঞ সম্পাদন হয় না। আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা মহাপূণ্যবতী বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে রংকরণ, বয়ন ও সেলাই শেষে চীবর (বিশেষ পরিধেয় বস্ত্র) দানকার্য সম্পাদন করেছিলেন।

এদিকে রাজবন বিহারে আয়োজিত কঠিন চীবর দানোৎসব ঘিরে মুখর হয়ে উঠেছে গোটা রাঙামাটি শহর এলাকা। উৎসব ঘিরে রাজবন বিহার এলাকায় বসেছে মেলা। ধর্মীয় কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চরকায় সুতা কাটা, বেইন বোনা, কল্পতরু শোভাযাত্রা সহ আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি।
রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদ জানায়, উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষে রাজবন বিহারসহ গোটা রাঙামাটি শহরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। অনুষ্ঠানকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে কয়েকশ’ পুলিশ। সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য বিহারের মূল গেটে স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুমসহ সিসি ক্যামেরা। এছাড়া জলপথে নৌ-টহল এবং স্থলপথে মোবাইল টহল টিমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

The Post Viewed By: 43 People

সম্পর্কিত পোস্ট