চট্টগ্রাম শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৮ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:৫১ পূর্বাহ্ন

মরিয়ম জাহান মুন্নী

স্বস্তির আরেক নাম ডে-কেয়ার

সন্তানদের জন্য কর্মজীবী বাবা-মায়ের আস্থা

নগরীর অলিগলিতে ছড়িয়ে আছে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেকগুলো বেসরকারি বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়গুলোর সাইনবোর্ডে প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণ কার্যক্রম ব্যবস্থার উল্লেখ আছে। পাশাপাশি লেখা থাকে আবাসিক-অনাবাসিক হোস্টেল ও ডে-কেয়ার সুবিধার। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে বেশিরভাগ বেসরকারি বিদ্যালয়েই নেই কোনো হোস্টেল ও ডে-কেয়ার সুবিধা। তবে এক্ষেত্রে কর্মজীবী অভিভাবকদের আস্থা দখল করে আছে হাতেগোনা কয়েকটি ডে-কেয়ার সেবা প্রদানকারী বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়গুলোর সংখ্যা কিন্তু খুব একটা বেশিও নয়। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে কাজির দেউড়ি সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, চকবাজারের মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ, কর্ণফুলী স্কুল এন্ড কলেজ ও পাঁচলাইশ সারাদিনের স্কুল। সরেজমিনে বিদ্যালয়গুলো ঘুরে দেখা যায়, বিকেল চারটার দিকে শিশুরা বিভিন্ন খেলায় ব্যস্ত। কেউ ক্যারম, বল ও বিভিন্ন খেলার সামগ্রী নিয়ে খেলছে। কেউ বা আবার রঙ পেন্সিল দিয়ে খাতায় আঁকিবুকি

করছে। কেউ পড়াশোনায় ব্যস্ত। চকবাজার ও কাজির দেউড়ি এলাকার এমনি কয়েকটি বিদ্যালয় দেখা যায় দিবাযতেœর বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। প্রতিদিন এ শিশুরা চলে একটি নিয়মের মধ্যদিয়ে। কর্মজীবী বাবা-মায়ের সন্তান এরা। তাই দেখা যায় চাকরির জন্য সন্তানদের সময় দিতে পারে না বাবা-মা। বাবা চাকরিজীবী হলেও অনেক সময় দেখা যায় মাকে তার ক্যারিয়ার বলি দিতে হয় সন্তানকে মানুষ করতে।

কিন্তু দিবাযত্ন বিদ্যালয়গুলো কর্মজীবী অভিভাবকদের সন্তানদের সুরক্ষার ভালো মাধ্যম। যার কারণে মাকেও আর চিন্তা করতে হয় না। সারাদিনের স্কুলগুলো স্বল্প খরচে দিচ্ছে শিশু যত্ন সুবিধা। যেখানে এই শিশুরা সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অবস্থান করে। এরমধ্যে প্রতিদিনের স্কুল শেষে এখানেই গোসল, খাওয়া, ঘুম, হোমওয়ার্ক, খেলাধুলাসহ নিয়ম করে পড়ার ব্যবস্থা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কাজির দেউড়ি সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, চকবাজারের মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ ও কর্ণফুলী স্কুল এন্ড কলেজ দিবাযতেœ অভিভাবকদের আস্তার আরেক নামও বলা যায়।

বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে ১শ, মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ ৭৫ ও কর্ণফুলী স্কুল এন্ড কলেজে প্রায় ১শ জন ডে-কেয়ার শিক্ষার্থী আছে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিশুরা বিদ্যালয়ে অবস্থান করে। বিদ্যালয়গুলোতে ৫ বছর থেকে ১৬ বছরের শিশুও আছে। ডে-কেয়ারে একজন শিশু মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময় দিবাসেবা পেয়ে থাকে। বিদ্যালয় পড়াশোনার বাইরে এদের নিয়ম করে সকাল-বিকালে নাস্তা, দুপুরে ভাত ও বিকেলে খেলার সুযোগও দেয়া হয়। দুপুরের খাবারে ভাতের সাথে যেকোনো একটি মাংস, কখনো মাছ, ডাল ও সবজি দিয়ে থাকে। নাস্তায় বার্গার, নুডলুস, ছোলা ও ডিম পাউরুটি দেয়া হয়। এটি প্রতিটি ডে-কেয়ার বিদ্যালয়ের পদ্ধতি।

সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের এক অভিভাবক তামান্না রহমান বলেন, আমরা দ্জুনেই ব্যাংকে চাকরি করি। বাসায় কেউ নেই। তাই ছেলেকে একা বাসায় রেখে যেতে ভয় লাগে। ছেলের বয়স মাত্র ৭ বছর। একা ঘরে থাকার চেয়ে স্কুলে থাকা ভালো মনে করি। এখন চাকরিতে থাকা অবস্থায় চিন্তা হয় না। বলতে পারেন স্বস্তির আরেক নাম ডে-কেয়ার। টাকা গেলেও এটি সত্যি আমাদের মত বাবা-মায়েদের জন্য ভালো মাধ্যম।

সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ চৌধুরী মো. মহিউদ্দিন মান্নান বলেন, আগের সেই যৌথ পরিবার এখন আর দেখা যায় না। যেখানে দাদা-দাদীসহ অনেকেই ছিল। যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে এখন গড়ে উঠেছে একক পরিবার। শিক্ষার প্রসারে কর্মমুখী হচ্ছে গ্রামের মানুষ। তারা উচ্চ শিক্ষা আর ভালো চাকরি লাভে যৌথ পরিবার থেকে হচ্ছে শহরমুখী। তাই দেখা যায় সংসার শুরু করতে হয় শহরেই। আর তখনি তৈরি হয় একক পরিবারের। বর্তমানে শহরে প্রায় ৭০ ভাগ পরিবারই হচ্ছে একক পরিবার। এ পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুইজন সাথে এক বা দুইটি সন্তান থাকে। দুইজনে চাকরিজীবী হওয়ায় সন্তানদের দেখভাল করতে পারে না। তাই আমি মনে করি আমাদের এ উদ্যোগ তাদের জন্য ভালো। আর এখানে শিশুরা নিরাপদেও থাকে। নিয়ম করে টিউশন ব্যবস্থাও করা হয়। এতে শিশুদের বাড়ি গিয়ে আর পড়তে হয় না।

The Post Viewed By: 81 People

সম্পর্কিত পোস্ট