চট্টগ্রাম বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

৭ নভেম্বর, ২০১৯ | ৪:০৫ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি এখন স্কাইপ দল, এখানে কন্ট্র্রিবিউশনের মতো কিছু নেই

দলত্যাগী মোরশেদ খানের প্রতিক্রিয়া

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর মোরশেদ খানের বিএনপি ছাড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলেছেন। মোরশেদ খানের বিএনপি ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত দলের দক্ষিণ জেলার সাবেক সভাপতি আহমেদ খলিল খান দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘দল ছাড়ার বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আমি যতটুকু বুঝেছি বয়স বৃদ্ধি, দলে অবমূল্যায়ন, ক্ষোভসহ নানা কারণে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর আগে অনেকেই দল ছেড়েছিলেন। কিন্তু দলের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। বাংলাদেশে বৃহৎ দুইটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। এ দুই দলের বাইরে গিয়ে কেউ তেমন কোন লাভবান হতে পারেনি। তবে আমার যতটুকু মনে হয় তিনি আর কোন দলে যাবেন না। পরিবারের চাপের কারণেও হয়তো তিনি দল ছাড়তে পারেন।’

এদিকে আগের রাতে পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান গতকাল একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি বৃহত্তম একটা দল, এর বিশাল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগতা জনমানুষের কাছে। সেই দলটি এখন স্কাইপের মাধ্যমে চলছে; এটা এখন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্কাইপ দল’ হয়ে গেছে। এটা বেদনার, এটা ক্ষোভের। প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘আমি মনে করছি, এই দলের এখন আমার কনট্রিবিউশন করার মতো কিছু নেই। নতুন প্রজন্মকে এই দলের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে- এটাই আমার পরামর্শ।’

উল্লেখ্য দুর্নীতির মামলায় দ-িত হয়ে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকে দল চালাচ্ছে তার বড় ছেলে তারেক রহমান, যিনিও দুর্নীতির মামলায় দ-িত হয়ে পলাতক। দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে প্রায়ই তিনি স্কাইপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে আসেন।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ আংশিক) সংসদীয় আসনে বিগত চারটি নির্বাচনে মোরশেদ খান বিজয়ী হন। জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে মোরশেদ খান ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দেন মোরশেদ খান। তিনি ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির টিকেটে অংশগ্রহণ করে একই আসনে জয়লাভ করেন। তবে এ সংসদ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। একই বছরের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মোরশেদ খান বিএনপি থেকে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। তবে ২০০৮ সাল এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ায় তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।

The Post Viewed By: 117 People

সম্পর্কিত পোস্ট