চট্টগ্রাম সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯

৭ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা হ রাউজান

শেষ পর্যন্ত চলেই গেল স্কুলছাত্রী রুনা

অপমানে আত্মহত্যার চেষ্টা

রাউজানে বখাটেদের উত্ত্যক্ত’র অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী রুনা আকতার নামে দশম শ্রেণির সেই স্কুলছাত্রী দীর্ঘ ৬ মাস মুমূর্ষু অবস্থায় থাকার পর অবশেষে মারা গেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নে ওই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়। সে ওই ইউনিয়নের মাওলানা বদিউর রহমানের বাড়ির দিনমজুর আবদুল মন্নানের মেয়ে ও চিকদাইর শাহাদাত ফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী। স্কুলছাত্রী রুনার বাবা চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে দায়ের করা মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল স্কুল থেকে ফিরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার সময় চিকদাইর নেওয়াজ গাজী (রা.)’র ওরশ উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় ঘুরতে যায় স্কুলছাত্রী রুনা ও তার প্রেমিক অভি। প্রতিবেশী কয়েকজন যুবক রুনা ও তার প্রেমিকের গতিবিধি লক্ষ্য করায় রুনার প্রেমিক অভি মেলা থেকে সটকে পড়ে। পরে মেলায় প্রতিবেশী নুরুল আমিনের ছেলে মঞ্জুর হোসেন (২২), কবির আহম্মদের ছেলে কফিল উদ্দিন (২০) মো. বশির ছেলে হেলাল (২০) ফয়েজ আলীর ছেলে বেলালসহ (১৯) অজ্ঞাতনামারা রুনাকে উত্ত্যক্ত ও লাঞ্ছিত করে। এক পর্যায়ে বখাটেরা রুনার পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। অপহরণ করার চেষ্টা করে। ওইসময় স্কুল ছাত্রী রুনা আকতার দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে চিকদাইর শাহাদাত ফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকের হোসেন রুনা আকতারকে উদ্ধার করে। এরপর তিনি মেয়েটির মাতা নয়ন বেগমেকে সংবাদ দিলে রুনার মা প্রতিবেশী সাকিব ও আত্মীয়রা এসে রুনা

আকতারকে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর অপমানে সে একই রাতে আত্মহত্যার চেষ্ঠা করে। পরিবারের লোকজন দেখে ফাঁসির রশি থেকে নামিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় রুনা আকতারকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। চমেক নিউরো সার্জারি বিভাগে ৯ মে পর্যন্ত ১ মাস ১৩ দিন রুনা চিকিৎসাধীন ছিল। পরে রুনা আকতার চমেকে চিকিৎসা করে বাড়িতে ফিরে আসলেও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সর্বশেষ গতকাল বুধবার ভোর ৪টায় তার মৃত্যু হয়।

The Post Viewed By: 54 People

সম্পর্কিত পোস্ট