চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:১৩ পূর্বাহ্ন

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

চট্টগ্রামে টিসিবি’র কাজ কী

সেঞ্চুরি হাঁকাল পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ১০৫-১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে

আবারো সেঞ্চুরি হাঁকাল পেঁয়াজ। গত মাস থেকে অস্থিরতা চলে আসছে। পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতাদের এখন নাভিশ্বাস ওঠেছে।

তারপরও হাত-পা গুটিয়ে নির্বিকার বসে আছে সরকারি পণ্য বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তবে ঢাকা খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করে আসছে সরকারি এই সংস্থাটি। চট্টগ্রামে এই ধরনের কোন উদ্যোগ নেই। ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, চট্টগ্রামে সংস্থার কাজ কী। গতকাল মঙ্গলবার পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ আরও একধাপ বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৯০-৯৫ টাকায়। মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে মিয়ানমারের পেঁয়াজও ভারতীয় পেঁয়াজের কাছাকাছি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে মূল্য তালিকা টাঙানো এবং ক্রয়-বিক্রয় রশিদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা থাকলেও পাইকারি বাজারে এখন রশিদ ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে। কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন পূর্বকোণকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে টিসিবি’র কার্যক্রম না থাকলে সবকিছু গুটিয়ে ঢাকায় চলে যাওয়া উচিত। কোন কাজ না থাকলে এখানে বসে থেকে লাভ কী। এছাড়া কর্মকর্তারা তো চট্টগ্রামে থাকেন না, ঢাকায় থাকনে।’ টিসিবি’ খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি না করা পর্যন্ত মুক্তি মিলবে না বলে জানান তিনি। টিসিবি চালু না হওয়াকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলে দাবি করেছেন তিনি। ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। এরপর থেকে বাজারে অস্থিররতা শুরু হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর বাজার একেবারে আকাশচুম্বি। একলাফে পাইকারি বাজারে ভারতীয় আমদানি করা পেঁয়াজের দর ৯০-৯৫ টাকায় পৌঁছে যায়। দুই দফায় পাইকারি বাজারে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ অভিযানের পর পাইকারিতে দর কমে ৭০-৭৫ টাকা নেমে আসে। এদিকে, ভারত সরকার পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ঘোষণার মিয়ানমার, তুরস্ক, মিশর ও চায়না থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ সরবরাহের পর বাজার ৬০-৬৫

টাকায় নেমে আসে। সেখান থেকে আবার উল্টোপথে হাঁটতে শুরু করে। আবারো ৮০-৮৫ টাকায় পৌঁছে যায়।

গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ফের অভিযান চালিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫ টাকা ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রির জন্য দর বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু গতকাল ভারতীয় পেঁয়াজ ৯৫-১০০ টাকা ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার ও সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাসখানেক ধরে চরম সংকট চললেও উত্তরণের কোন উদ্যোগ নেয়নি টিসিবি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগী হলে তিন-চার দিনের মধ্যেই বাজার স্থিতিশীল হয়ে যেত। বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে পেঁয়াজ আমদানির নির্দেশনা দিলে পেঁয়াজের দাম ২০ টাকায় নেমে আসতো।

চট্টগ্রামে টিসিবি’র কোন কার্যক্রম না থাকলে কার্যালয় থেকে আর লাভ কী। কার্যালয়ও ঢাকায় চলে যাক।
বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের কাজ হচ্ছে সরকারি পণ্য বিপণন সংস্থাটির। পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠলে কোন ব্যবস্থা নেয়নি ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন, খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রির অনুরোধ জানিয়ে টিসিবি’র কাছে চিঠি লিখা হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের চিঠিকে গুরুত্ব দেয়নি টিসিবি।

টিসিবি’র উপ-পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা থেকে টিসিবি’র সিদ্ধান্ত হয়। পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক কিছু বিবেচনা করেই পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য মনিটরিং বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আহসান খালেদ বলেন, সংকটের কারণে পেঁয়াজের দর বেড়েছে। বেনাপোল, সোনামসজিদ, হিলি, ভোমরাসহ ভারত সীমান্ত আমদানিকারক এখন আর আড়তদারি দিচ্ছে না। সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরে ৯০-৯৫ টাকা বিক্রি করছে ভারতীয় পেঁয়াজ। তার সঙ্গে গাড়ি ভাড়া ও পচে যাওয়া পেঁয়াজের সঙ্গে তারতম্য করে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনিও টিসিবি’র সমালোচনা করে বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি এই সংস্থাটি ব্যর্থ। ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর টিসিবি উদ্যোগ নিলে বাজার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকতো।

২নং গেট ষোলশহর কর্ণফুলী কমপ্লেক্স কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আলহাজ এয়াকুব চৌধুরী বলেন, ‘পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ কেনার সময় রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। ভারতীয় পেঁয়াজ ৯৭-১০০ টাকা ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৭৮-৮৫ টাকায় কিনেছেন বলেন জানান তিনি। খুচরায় ভারতীয় পেঁয়াজ ১০৫ টাকা বিক্রি করছেন তিনি। তবে কয়েকটি দোকানে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।

The Post Viewed By: 183 People

সম্পর্কিত পোস্ট