চট্টগ্রাম বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

২২ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:১৩ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

মানুষকে জিম্মি করে কেন এই ধর্মঘট

স্থিতিশীল রয়েছে রাজনৈতিক পরিবেশ। নেই দাঙ্গা-হাংগামা, অনেকটা শান্ত। কিন্তু গতকাল বাসা থেকে বেরিয়ে নগরবাসী দেখল, নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। রাস্তা থেকে উধাও গণপরিবহন। পূর্ব-ঘোষণা ছাড়াই চলছে ‘অঘোষিত ধর্মঘট’। অর্থাৎ পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা কাছে জিম্মি করে হয়ে পড়ল নগরবাসী। শুধু তাই নয়, পরিবহন মালিকদের ৬টি সংগঠন এখন জোট বেঁধেছে। দ-প্রাপ্ত মালিকের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। জনগণের অবস্থা বলতে এখন মরার উপর খাঁড়ার ঘা অবস্থা। কেন এই ধর্মঘট। এই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই গণমানুষের। যানবাহনের বৈধ ডকুমেন্ট ও চালকদের লাইসেন্স যাচাই-বাছাই অভিযান শুরু করেছে বিআরটিএ। পরিবহন ও কাগজপত্র ত্রুটির কারণে এক মালিককে দ- দিয়েছেন বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ব্যস, বেঁকে গেল মালিক-শ্রমিকেরা। অথচ সরকারি এই সংস্থাটির কাজ-ই হচ্ছে তা দেখভাল করা। সরকারি কাজে এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবহন মালিকেরা। অথচ পরিবহন মালিক সংগঠনের বেশির ভাগই সরকারিদলের নেতা বলে নিজেদের দাবি করেন। সরকারিদলের সেই নেতাদের ভূমিকা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

অঘোষিত ধর্মঘটকে পক্ষান্তরে আইনপরিপন্থী বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সমিতির মহাসচিব বললেন, ‘যাত্রীদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও নিরাপত্তা বিঘিœত করার অপরাধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যায়। এবং রাষ্ট্রকেই এই উদ্যোগ নিতে হবে।’
নিয়মতান্ত্রিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে বিআরটিএ। অভিযানে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও চালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিচ্ছে সরকারি সংস্থা বিআরটিএ। নিয়মতান্ত্রিক অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে। এখন অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণমানুষ। এভাবে আর কতদিন। এর কী কোন শেষ নেই। জনগণ কী গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা কাছে আজীবন জিম্মি হয়ে থাকবে। এ থেকে নিস্তার দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের। কী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার-সেই প্রশ্ন এখন জনগণের।

গতকাল নগরীতে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মস্থলে পৌঁছতে চরম বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও জিম্মিদশায় পড়েছে। রিকশা-ট্যাক্সি করে অধিক ভাড়া গুনে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়েছে হাজার হাজার সাধারণ-মানুষকে।
অঘোষিত ধর্মঘট অযৌক্তিক এবং যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তার পরিপন্থী বলে দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা আইনকানুন মানতে চায় না। পদে যাত্রী হয়রানি, বাড়তি ভাড়া আর নৈরাজ্যে মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে রেখেছে। মোদ্দা কথা, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কাছে পুরোপুরি জিম্মি হয়ে পড়েছে জনগণ। এখন প্রশ্ন হল, জনগণকে জিম্মি করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে ?

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ জনবান্ধব যে অভিযান পরিচালনা করছে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। জনবান্ধব কাজ বন্ধ করার জন্য যারা বাস বন্ধ করে সরকারি কাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, এটা নিঃসন্দেহে সরকারবিরোধী কর্মকা- বলে আমরা মনে করছি। কিন্তু সরকারের সঙ্গে কোনো বৈঠকে আবার তারা বড় আওয়ামী লীগ পরিচয় দিতে মরিয়া হয়ে উঠে।’
এই বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের প্রভাবশালী মালিক সমিতির নেতারা নিজেদের বড় আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেন। আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিলেও সরকারের নীতি, আদর্শ বাস্তবায়ন মেনে নেয়াও তাদের প্রধান কাজ। কিন্তু তাদের সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জনগণকে জিম্মি করে ভোগান্তি দিয়ে এখন সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যা কাম্য নয়।

শ্রম দপ্তরের ট্রেড ইউনিয়ন নীতিমালার উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবহনে কোন ধর্মঘট আহ্বানের ক্ষেত্রে ৯০ আগে নোটিশ দিতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ যদি নোটিশ আমলে না নেয়, তখন ধর্মঘট ডাকার বিধান রয়েছে। তাও আবার জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের বিধান রয়েছে। এখন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গায়ের জোরে ধর্মঘট ডাকা অন্যায় ও বৈআইনি। মূল কথা হচ্ছে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা আইনের মধ্যে চলতে চায় না। কারণ পরিবহনে আপদমস্তক হচ্ছে দুর্নীতি। তাই আইনের ছোঁয়া বা আঁচড় লাগলে গায়ে জ্বালা ধরে।

জনগণের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে জননিরাপত্তা বিঘœ সৃষ্টিকারী আইনের আওতায় আনার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা হতে পারে। রাষ্ট্র বাদী হয়ে এই উদ্যোগ নিতে পারে। জনগণ স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।

ধর্মঘট করার অধিকার মানে জনগণকে জিম্মি করা নয়। মনে রাখতে হবে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

The Post Viewed By: 61 People

সম্পর্কিত পোস্ট