চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মালিককে মুক্তি না দিলে ধর্মঘট চলবে : মালিক সমিতি

সড়কে দিনভর ভোগান্তি

অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট হ গাড়ি বন্ধ বেআইনি : ম্যাজিস্ট্রেট হ সড়কে রাজত্ব ট্যাক্সি, রিকশা টেম্পো ও রাইড শেয়ারের

সকাল থেকে অঘোষিতভাবে ধর্মঘট পালন করেছে শহর গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ফলে শহরের রাস্তা ছিল গণপরিবহনশূন্য। এতে গতকাল দিনভর ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের। গতকাল সোমবার শহরের প্রতিটি ব্যস্ততম মোড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনেছে হাজার হাজার যাত্রী। যাত্রীদের এ দুর্ভোগের আগুনে সুযোগে ঘি ঢেলে দিয়েছে সিএনজি ট্যাক্সি, রিকশা, টেম্পো ও রাইড শেয়ারাররা। যাত্রীদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিয়েছে বাড়তি ভাড়া।

বেকায়দায় পড়তে হয়েছে পরীক্ষার্থীদেরও। গতকাল সকালে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুপাশে বিমানবন্দর ও জিইসিমুখী যাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছে বাসের অপেক্ষায়। যাদের মধ্যে অনেকেই জানেন না যে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। আর যখনই জানতে পেরেছে সড়কে পরিবহন নামছে না তখনই ছুটেছেন সিএনজি ট্যাক্সি, রিকশা, টেম্পু ও রাইড শেয়ারারদের কাছে। এসব গাড়ির কাছে ছুটে গিয়ে ভাড়া জিজ্ঞাসা করে হতাশ হয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের। কারণ, সিএনজি ট্যাক্সিগুলো দ্বিগুন ভাড়া দাবি করেছে। যাত্রী জিম্মি করতে পিছিয়ে থাকেনি রিকশা, টেম্পু ও এপস ভিত্তিক রাইডস শেয়ারাররাও। অতিরিক্ত অর্থের লোভে লোকাল ভাড়া টেনেছে সিএনজি ট্যাক্সিগুলো। রিকশা চালকও তুলেছেন আলাদা আলাদা দুইজন যাত্রী। যাত্রী জিম্মিতে কয়েক ধাপ এগিয়ে ছিলেন এপস ভিত্তিক রাইডস শেয়ারাররা। এপস বন্ধ করে লোকাল বাসের মত ডেকে ডেকে যাত্রী তুলেছেন তারা। এদিকে শহর পরিবহন সেক্টেরের অঘোষিত এ ধর্মঘটে শিকার হয়েছে পরীক্ষার্থীরাও। পরীক্ষা না দিতে পরার শংকাও প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী।

এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী নিশাত ফাতেমা এ প্রতিবেদককে জানান, ‘বড়পুল থেকে আমি এনায়েত বাজার পর্যন্ত যাবো। প্রতিদিন কলেজের সুবাদে ৭ নং বাসে করে যাওয়া আসা করি। তবে সকাল থেকে বাস বন্ধ থাকায় বড়পুল থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত টেম্পোতে করে এসেছে। আজ পরীক্ষা আছে। কিন্তু গাড়ি না থাকায় কলেজে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। সিএনজি আছে তবে তা ভাড়া করে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

একই স্থানে লালদিঘির পাড়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে থাকা আরো এ যাত্রী বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকটি গাড়ি পরিবর্তন করে বন্দরটিলা থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত এসেছি। যাবো লালদিঘি। ভেবেছিলাম আগ্রাবাদ গাড়ি পাওয়া যাবে। কারণ আমি জানতাম না আজ পরিবহন ধর্মঘট চলছে। পরিবহন মালিকরা কিছু হলেই হুট করে ধর্মঘট শুরু করে দেয়। যার কারণে আমরা সাধারণ যাত্রীরা সড়কে জিম্মি হয়ে পড়ি। সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে দেয় অন্যগাড়ি চালকরা। এই দেশে কারো দেশর প্রতি প্রেম নেই, সবাই নিজ প্রেমে মগ্ন।’

শিক্ষার্থী নিশাত ফাতেমা ও এই যাত্রীর মত একই অভিযোগ করেছেন অপেক্ষারত সকল যাত্রীরা।

এদিকে দ-প্রাপ্ত মালিকের মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন বাস মালিক গ্রুপের মহা-সচিব মো. বেলায়েত হোসেন বেলাল। তিনি বলেন, ফিটনেসের অজুহাতে দ-প্রাপ্ত বাস মালিককে জামিনে মুক্তি দেয়া না হলে ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রামের সিটি সার্ভিস, সিটি ওনার্স এসোসিয়েশন, লুসাই, চট্টলা পরিবহন, কালুরঘাট মালিক যাত্রীসেবা, মহানগর বাস মিনিবাস হিউম্যান হলার এসোসিয়েশনের মালিকরা বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, প্রথম দিন মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা ছাড়াই বাস মালিকরা ধর্মঘট পালন করলেও আগামীকালের (আজ) ধর্মঘটের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেছেন মালিক সমিতিগুলো।

বাস বন্ধ রেখে বেআইনি কাজ করেছে মালিক সমিতিগুলো বলে মন্তব্য করেছেন বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মঞ্জুরুল হক। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী বাস মালিককে কারাদ- দেয়া হয়েছে। বাস মালিকরা চাইলে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিনের আবেদন করতে পারেন। তবে তারা তা না করে বাস বন্ধ রেখে বেআইনি কাজ করেছে। তারা চাইছে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে প্রশাসনকে জিম্মি করতে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বিআরটিএর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।’

উল্লেখ্য, রবিবার ১০ নম্বর রুটের ফিটনেসবিহীন একটি গাড়ির চালক ও মালিকসহ তিনজনকে কারাদ- দেয় বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত। যার প্রতিবাদে অঘোষিতভাবে গতকাল সোমবার ধর্মঘট পালন করে বাস মালিকরা। এর আগেও গত ঈদুল ফিতরের সময়ও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অপরাধে কিছু গাড়িকে জরিমানা করার পর পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।

The Post Viewed By: 403 People

সম্পর্কিত পোস্ট