চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:০৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ন্যায়বিচার’ চেয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

‘যদি আবিদ হত্যার বিচার হতো তাহলে আবরার হত্যা হতো না’

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র আবিদুর রহমান আবিদ হত্যার আট বছর পেরিয়ে গেলেও সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবার। একই সাথে ন্যায়বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনাও করেন তারা। পরিবারের দাবি, আবিদ হত্যার সুষ্ঠু বিচার যদি হতো, তাহলে বুয়েটের আবরার হত্যার ঘটনা ঘটতো না। গতকাল (সোমবার) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আবিদের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবিদের ভাই জিল্লুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আবিদকে তারই সহপাঠী ও বড়ভাই ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে হকিস্টিক, লাঠি, স্ট্যাম্প ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। চমেকে কথিত ছাত্র সংসদ নামে টর্চার সেলে আবিদের ওপর সন্ত্রাসীরা তিন-চার ঘণ্টা নির্যাতন চালাচ্ছিল, এমন খবর জানার পরও কলেজ প্রশাসন আবিদকে বাঁচাতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাছাড়া মুমূর্ষু আবিদকে বাঁচানোর জন্য একটু চিকিৎসার ব্যবস্থাও গ্রহণ করেননি। দুঃখজনক হলেও সত্য- আবিদ চমেক শিক্ষার্থী হয়েও সেদিন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পায়নি। যদি চিকিৎসার সুযোগ পেতো হয়তোবা আমার মায়ের বুক খালি হতো না। আবিদের খুনিদের বিচার এবং জড়িতদের কলেজ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে যে দিন কলেজে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে সেদিন কর্তৃপক্ষ যৌক্তিক আন্দোলনকে থামাতে খুনিদের পরামর্শে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিল। পাশাপাশি রাতের আঁধারে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে খুনিদের পক্ষে অবস্থান নেয়। অথচ সম্প্রতি বুয়েটছাত্র আবরার হত্যার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ ও বুয়েট প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু আবিদ হত্যার পর চমেক প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আবিদের ভাই বলেন, মামলা দায়েরের চার মাসের মাথায় পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যায় সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। আমরা মনে করি সেই প্রতিবেদন খুনিদের প্ররোচনায় এবং কলেজ প্রশাসনের ইন্ধনে তৈরি হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ওই চার্জশিট দেওয়ার কোনো খবর মামলার বাদিকে দেওয়া হয়নি। বাদি খবর না পাওয়ায় এবং নারাজি না দেয়ায় ১২ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। একই সাথে বিচার কাজ চলাকালে বাদিপক্ষের অনুপস্থিতে ওই মামলায় চলতি বছরের ১৭ জুলাই রায় দেওয়া হয়। রায়ে আদালত সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়। এই রায়ে সংক্ষুব্ধ বিধায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান জিল্লুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে আবিদের বড় বোন মোরশেদা ইয়াসমিন বলেন, বুয়েটে আবারারকে যেভাবে হত্যা করা হয় সেভাবে আবিদকেও হত্যা করা হয়েছিল। যদি আবিদ হত্যার বিচার হতো তাহলে আবরার হত্যা হতো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খুনি তো খুনিই, সব খুনির বিচার হবে। উনি যেমন শেখ রাসেলকে ভুলতে পারেননি, আমরাও আমাদের ভাইকে ভুলতে পারবো না। আমরা ভাইয়ের খুনের বিচার চাই।

সংবাদ সম্মেলনে আবিদের মা সৈয়দুন্নেসা, বড় ভাই লুৎফুর রহমান, বোন সাজেদা ইয়াসমিন, শাহেদা ইয়াসমিন, মুরশেদা ইয়াসমিন, রায়হান জান্নাত, ভগ্নিপতি সোহেলসহ পরিবারের সদস্যাগণ উপস্থিত ছিলেন।

The Post Viewed By: 131 People

সম্পর্কিত পোস্ট