চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ অক্টোবর, ২০১৯ | ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী

বাঁশখালীর বৈলছড়ি ছড়ার ভাঙন

সামান্য বৃষ্টিতেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে পাহাড়ি ঢলের পানি

বাঁশখালীর বৈলছড়ি ছড়ার কিনারে বসতঘর তৈরি করায় ও ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার দুই পাশ ভেঙে পাহাড়ি ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বসতঘরের আঙিনাসহ অভ্যন্তরীন সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় পায়ে হেটে যাতায়াতে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছে। পাহাড়ে বৃষ্টিতেই রোদের মধ্যেও ঢলের পানিতে ভাসতে হয় বৈলছড়ি এলাকাবাসীকে।

জানা যায়, বৈলছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পাহাড়ি এলাকা হতে কাথারিয়া সীমান্ত পর্যন্ত বৈলছড়ি ছড়াটি প্রবাহিত। গত কয়েকবছর ধরে পূর্ব বৈলছড়ি পাহাড়ি এলাকায় বৈলছড়ি ছড়া থেকে বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলন করে চলছে। ফলে ছড়ার পাশ ভেঙে সামান্য বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলের পানি অবাধে লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে পূর্ব ও পশ্চিম বৈলছড়ির বসতিগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। বৈলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই ছড়াটির অধিকাংশ ভেঙে গিয়ে বৃষ্টির পানিতে বৈলছড়ি চুনতি বাজার সড়কটির বেশ কিছু ডুবে থাকে। এ সময় পরিষদের ভিতরেই ঢলের পানি ঢুকে পড়ে। পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির সময় ওই সড়কের ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১টি মাদ্রাসার ৩ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পায়ে হেটে চলাচলে বিপাকে পড়ে যায়। এছাড়াও বিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী সোনালী ব্যাংক ও বৈলছড়ি বাজারে যাতায়াতকারী মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয় নুরুল আলম নামে এক ব্যক্তি জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের দুর্দশার অন্ত থাকে না। বৈলছড়ি ছড়াটি ভাঙনের ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশের পাশাপাশি বৈলছড়ি চুনতি বাজার সড়কটি তলিয়ে যায়। এ সময় আমাদের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা স্কুলে যাতায়াতে ভীষণ কষ্টের সম্মুখীন হয়।

বৈলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দীন চৌধুরী বলেন, পূর্ব বৈলছড়ি পাহাড়ি এলাকায় ৮-১০ বছর ধরে কতিপয় ব্যক্তি ছড়ার বিভিন্ন অংশ থেকে বালু উত্তোলন করে চলছে। যার ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ছড়ার কূল ভেঙে লোকালয় গড়িয়ে প্রধান সড়ক পর্যন্ত পানিতে নিমজ্জিত থাকে। বালু উত্তোলন ছড়ার জায়গা দখল করে বসতবাড়ি তৈরি করায় ছড়ার পানি চলাচলে বাাধাগ্রস্ত হয়ে কূল ভেঙে যাচ্ছে। গত ২ বছর পূর্বে ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্কুল সংলগ্ন ছড়ার অংশে মাটি ফেলে সংস্কার করা হলেও বৃষ্টিতে আবারো ভেঙে গেছে। বর্তমানে মেরামত করতে গেলে অন্তত ৩০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। দিন দিন এই ছড়াটির বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

The Post Viewed By: 57 People

সম্পর্কিত পোস্ট