চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২১ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা হ উখিয়া

২৫ দিন পার, শনাক্ত হয়নি খুনি উখিয়ায় ফোর মার্ডার

উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং বড়ুয়াপাড়ায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারের ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও কার্যত তদন্তে কোন অগ্রগতি নেই। গত ২৫ দিনে কোন খুনি শনাক্ত হয়নি। এই সংক্রান্ত মামলাটি গত অক্টোবর কক্সবাজার জেলা পুলিশ পিবিআই’র কাছে হস্তান্তরের আগের দিন একজন মহিলাসহ সন্দেহজনক ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূলতঃ হত্যাকা-ের পরদিন থেকে দফায় দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে মামলায় বিবেচনায় আনার মতো কোন তথ্য গ্রেপ্তারদ্বয়ের কাছ থেকে পায়নি। এ মামলার দ্বিতীয় আইও উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের কাছে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আইও পরিবর্তনের পর পিবিআই’র নিয়োগকৃত আইও ইন্সপেক্টর পুলক বড়ুয়া গত ১৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে শুনানি করেন। শুনানিকালে আসামি রিপু বড়ুয়ার আইনজীবী রাষ্ট্র পক্ষ হতে জানতে চান কেন, কোন গ্রাউন্ডে রিপু বড়ুয়ার বিরুদ্ধে রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে। তার উত্তরে রাষ্ট্রপক্ষ কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। একইভাবে গ্রেপ্তারকৃত উজ্জ্বল বড়ুয়ার আইনজীবী রাষ্ট্র পক্ষ থেকে জানতে চান, কোন গ্রাউন্ডে তার বিরদ্ধে রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে। জবাবে রাষ্ট্র পক্ষ বলেছিলেন, উজ্জ্বল বড়ুয়া থেকে কিছু রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। সে জামা-কাপড়ে লেগে থাকা রক্তের সাথে নিহত ৪ জনের রক্তের কোন মিল আছে কিনা, তা নির্ণয়ের জন্য জামাকাপড় ও নিহতদের রক্ত ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। তখন আইনজীবী জানতে চান, ল্যাবরেটরি টেস্টের

রিপোর্ট পাওয়া গেছে কিনা। জাবাবে রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, ফরেনসিক ল্যাবরেটরি টেস্ট রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। ফরেনসিক রিপোর্ট না পেলে আসামির বিরুদ্ধে রিমান্ড চাওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই। তখন আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাং হেলাল উদ্দিন এজলাসে আদেশ না দিয়ে ডকুমেন্টস দেখে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান। পরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাং হেলাল উদ্দিন রাষ্ট্র পক্ষের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে মাত্র একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পিবিআই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ইন্সপেক্টর পুলক বড়ুয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো আসামিদের মঞ্জুরকৃত একদিনের রিমান্ডে নিয়েছেন কিনা? তিনি জানান, মঞ্জুরকৃত রিমান্ড সুবিধামতো সময়ে করা হবে।
মামলাটি কক্সবাজার জেলা পুলিশ থেকে পিবিআই’কে হস্তান্তর করার পর হত্যার মোটিভ উদঘাটন, হত্যাকারী শনাক্ত করা গিয়াছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে আইও পরিদর্শক পুলক বড়ুয়া বলেন, বিভিন্ন সোর্স থেকে প্রাথমিকভাবে যে তথ্যগুলো পেয়েছি, তা যাচাই-বাছাই করছি। এখনো আসামি শনাক্ত করার মতো পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি।

এদিকে, পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার (বিপিএম-পিপিএম) গত ১৭ অক্টোবর বলেছিলেন, চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডার এর তদন্তে চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে অপরাধ উদঘাটন বিশেষজ্ঞরা সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করছে। এ হত্যাকা-কে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। হয়ত একটু সময় লাগলেও হত্যাকারী ও হত্যার মূল কারণ উদঘাটন করা যাবে। কতদিনের মধ্যে খুনের প্রকৃত রহস্য বের করা যেতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, সেটা এখনি সঠিক বলা যাচ্ছে না। তবে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডার মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি এডভোকেট দীপংকর বড়ুয়া পিন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৫ দিনেও একই পরিবারের চারজন খুনের কোন রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় এলাকাবাসী হতাশ। এভাবে খুনিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে থাকতে পারলে অপরাধীরা আরো উৎসাহিত হবে। এলাকাবাসী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদ কক্সবাজার জেলার নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট দীপংকর বড়ুয়া পিন্টু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে খুনিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

The Post Viewed By: 70 People

সম্পর্কিত পোস্ট