চট্টগ্রাম রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২০ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩:০১ am

আল-আমিন সিকদার

দু’টাকার সুতোয় লাখ টাকা ছিনতাই!

হ বোতল ভাঙা মিশিয়ে ধারালো সুতো তৈরি হ মোটরসাইকেল চালকদের টার্গেট করে ফাঁদ হ অন্ধকার সড়কে ওঁৎ পেতে থাকে চক্রটি

ছুরি, পিস্তল আর ভারী অস্ত্র ছেড়ে ছিনতাইয়ে নতুন কৌশলের আমদানি করেছে অপরাধীরা। নতুন এ কৌশলে মাত্র দুই টাকা খরচ করে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। একসময়ে ঘুরির প্রতিযোগিতায় জয় লাভ করতে সুতোতে যে ‘মাঞ্জা’ ব্যবহার করা হতো সেটাকেই এখন মরণ ফাঁদে পরিণত করেছে ছিনতাইকারীরা। সুতোতে সাগু আর বোতল ভাঙা মিশিয়ে পুরোনো পদ্ধতিইে চক্রটি তৈরি করছে তাদের নতুন এ মরণ কল। অন্ধকার রাস্তার একপাশে সুতোর মাথা বেঁধে অন্যপাশে সুতোর অপর মাথা ধরে বসে থাকে চক্রের সদস্যরা। এরপর মোটরসাইকেল দেখলেই সুযোগ বুঝে সুতোটি টান দিয়ে ধরে চক্রটি। সুতোটি এমনভাবে ধরা হয় যাতে মোটরসাইকেল চালকের গলায় গিয়ে আঘাত করে। চলন্ত অবস্থায় গলায় ধারালো এ সুতোর আঘাতে দিক হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায় চালকরা। পরে তাকে ঘিরে ধরে অন্ধকারে ওৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা। লুটে নেয় ঘড়ি, টাকা, মোবাইলসহ সাধের মোটর সাইকেলটিও।

এর আগে ঢাকার হাতিরঝিল এলাকাতেও এ ধরনের বেশ কয়েকটি ছিনতাই কা- ঘটেছিল। তবে এবার নতুন এ কৌশল নিয়ে নগরীতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি চক্র। নগরীর অন্ধকার সড়কগুলো বেছে নিয়ে সেখানে ওৎ পেতে থাকে চক্রটি। গত কয়েকদিন আগে নগরীর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে এ চক্রটির কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন এক মোটরসাইকেল চালক। ছিনতাইকারীদের বেঁধে রাখা সুতোর সাথে আটকে মাটিতে পড়ে মাথা ফেটে যায় ওই চালকের। এ নিয়ে নগরীর পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার দেবদূতের কাছে গিয়ে দেখা করেন ঘটনার শিকার চালক। তবে ঘটনাটি আসলেই কোন ছিনতাইকারী চক্র ঘটিয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন সহকারী কমিশনার দেবদূত। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘এ ধরনের একটি ঘটনা পাঁচলাইশ থানা এলাকার জিইসি র‌্যাম্পে ঘটেছে বলে অভিযোগ করে এক যুবক। বিষয়টি শোনার পর সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তবে সেখানে কাউকে পাইনি। তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ফ্লাইওভারে সাদা পোশাকের পুলিশের ডিউটি বাড়িয়েছি। প্রতি দেড় ঘণ্টা অন্তর অন্তর হোন্ডা মোবাইল গাড়ি দিয়ে রাউন্ড ডিউটি করাচ্ছি।’

এদিকে এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার পর জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ‘সাবধান, ছিনতাইয়ে নতুন কৌশল’ শিরোনামে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়া হয় ‘ঝযবশয ঝধষধঁফফরহ ঈঃম’ আইডি থেকে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘চট্টগ্রামের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভাওে ছিনতাইকারীরা ঘুড়ি উড়ার মাঞ্জা দেওয়া সুতো আটকে রাখে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। যার ফলে বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় হুট করে তা গলায় আটকে যায়। এতে কেউ পড়ে গিয়ে বিপদগ্রস্ত হলে তার মোবাইল, ব্যাগ, গাড়িটি ছিনতাই করে ফেলে। ঢাকায় এমন অনেক ঘটনা ঘটছে। ভাগ্য ভালো বাইক ৩০/৩৫ এ ছিল এবং কন্ট্রোল করতে সক্ষম হয়েছি। নাহলে অনেক বড় বিপদ ঘটে যেত। বিপদ আসলে একটা সুতো থেকেও আসতে পারে। সবাইকে সব কিছুর ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে অনুরোধ করছি।’

বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘ঢাকার হাতিরঝিলে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে চট্টগ্রামের এ ঘটনাটি পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ, সুতোর আঘাতে যে ছেলেটি আহত হয়েছে তাকে কোন ছিনতাইকারী আক্রমণ করেনি। তবুও আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্ত করেছি। নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। এ ধরনের কোন ঘটনা যাতে না ঘটে এজন্য পুলিশ সচেতন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

The Post Viewed By: 1973 People

সম্পর্কিত পোস্ট