চট্টগ্রাম বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

২০ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা অফিস

ফটিকছড়ির উজ্জ্বল বড়ুয়া ধৃত নারী পুলিশের আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট

ভুয়া নামে ফেসবুকে পেজ খুলে সেখানে পোস্ট করা হতো নারী পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের ছবি। এসব ছবির বেশির ভাগই আপত্তিকরভাবে এডিট করা হতো এবং ক্যাপশনে লেখা হতো কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য। নারী পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারীদের কুরুচিপূর্ণ ছবিও পোস্ট করা হতো এসব ভুয়া ফেসবুক পেজে। অবশেষে পুলিশের তদন্তে সন্ধান মিলেছে এমন কয়েকটি ফেসবুক পেজের সাথে জড়িত কুশীলবদের। খবর, ডিএমপি নিউজের।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর স্যোশাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ জানান, আপত্তিকর ফেসবুক পেজের সাথে জড়িত বেশ কয়েকজনকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নারী পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের আপত্তিকর ছবি ফেসবুক পেজে পোস্ট করার অভিযোগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রমনা মডেল থানায় ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টে একটি মামলা রুজু হয়। এই মামলায় গ্রেফতার করা হয় চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার উজ্জ্বল বড়ুয়া নামের এক যুবককে। ধ্রুব জানান, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাবুল মিয়ার ছেলে রিয়াজ উদ্দিনকে সম্প্রতি সনাক্ত করেছে স্যোশাল মিডিয়া মনিটরিং টিম। রিয়াজ উদ্দিন বর্তমানে ওমানে অবস্থান করছেন। বিদেশে বসে তিনি ভুয়া ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নারীদের আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে শেয়ার করতেন এবং বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ক্যাপশন লিখতেন। পুলিশ এসব ফেসবুক পেজ জব্দ করেছে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে যাতে তারা এ ধরণের অপরাধ সংঘঠিত করতে না পারে। সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব আরও বলেন, ওমান প্রবাসী রিয়াজ উদ্দিনকে রমনা মডেল থানায় রুজু হওয়া ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের মামলায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। রিয়াজ দেশে না ফিরলে পলাতক হিসেবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

যোগাযোগ করা হলে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য অভিযোগ করেন, আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার কারণে তারা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন। পুলিশ সদরদপ্তরে কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, যে বা যারা নারী পুলিশ ও অন্যান্য নারীদের ছবি বিনা অনুমতিতে ফেসবুকে শেয়ার করেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এ এফ এম আল কিবরিয়া বলেন, “পুলিশ ও অন্যান্য সরকারী দপ্তরে কর্মরত ও সাধারণ নারীদের নাম ও ছবি যারা অসৎ উদ্দেশ্যে ফেসবুকে শেয়ার করেন তারা আমাদের নজরদারীতে রয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

The Post Viewed By: 163 People

সম্পর্কিত পোস্ট