চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২০ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, নাইক্ষ্যংছড়ি

দুর্গাপূজার চাঁদা না দেয়ার জের

নাইক্ষ্যংছড়িতে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৪ আটক ৫

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার চাঁদার টাকা আদায় নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দু’পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- দক্ষিণ বাইশারী এলাকার বাসিন্দা শশ বিন্দুর ছেলে বিজয় ধর (৪২), বিধান ধর (৩০), মৃত বজেন্দ্র ধরের পুত্র সজল ধর (৪৫) ও বিরেন্দ্র কর্মকারের ছেলে রাজধন কর্মকার (৩০)। এর মধ্যে বিজয় ধরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। গত শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার বাইশারী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী উদয়ন ধর জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে দুই সহোদর বিজয় ধর ও বিধান ধর বাড়ি যাওয়ার পথে বাইশারী বাজারের ত্রিমহনী চত্বরে এসে দাঁড়ালে মন্দির কমিটির সভাপতি সাধন ধর ও সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরী বটন দু’জনকে টেনে হেঁচড়ে বাজারের ভিতরে নিয়ে আসে। ওই সময় আরো ৪/৫ জন সনাতন ধর্মের লোক তাদের সাথে যোগ দিয়ে কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই দুুই সহোদরকে মারধর করতে থাকে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সভাপতি-সম্পাদকের লোকজন ইট ও লোহার রড দিয়ে বিজয় ধরের মাথায় আঘাত করে। এতে বিজয় ধর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী ইনচার্জ এসআই মাইনুদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার সাথে জড়িত ৫ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন- দক্ষিণ বাইশারী হরি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাধন ধর (৫২), সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরী বটন (৪০), দক্ষিণ বাইশারী গ্রামের বাসিন্দা সুবল হরি দে’র পুত্র মিটন দে (২৮), সুজন দে (৩৫), বীরেন্দ্র কর্মকারের পুত্র রাজধন কর্মকার (৩০)।
এদিকে স্থানীয়রা আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বাইশারী বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

আহত বিধান ধর জানান- দীর্ঘদিন যাবত ৫ হাজার টাকা চাঁদার জন্য মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। কিন্তু ১ হাজার টাকা দিতে চাওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ ক্ষেপে যায় এবং দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করে আসছে। পূজা শেষ হলে মন্দির কর্তৃপক্ষ অন্যান্য লোকজনকে নিয়ে তাদেরকে মারধরের জন্য কয়েক দফা বৈঠক করে। সর্বশেষ শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার সময় সকলে মিলে পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটায়। উক্ত ঘটনায় ৫জনসহ আরো অজ্ঞাতনামা কয়েক জনের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আটক মন্দির কমিটির সভাপতি সাধন ধর জানান- তাদের ধার্য্যকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ার ঘটনা সত্য। তবে আমরা কেউ ঘটনা ঘটাতে চাইনি। তারাই আমাদের ওপর প্রথম হামলা করে। এসময় এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যায়।

বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী ইনচার্জ এসআই মাইনুদ্দিন ঘটনার সাথে জড়িত ৫ জনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- বর্তমান আটককৃতরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের হাজত খানায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম বলেন- তিনি ঘটনাটি শুনার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন এবং উভয় পক্ষকে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন। তবে বিজয় ধরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হামলার শিকার পরিবার তা মানতে রাজি হয়নি।

The Post Viewed By: 77 People

সম্পর্কিত পোস্ট