Array ( [trans_dt] => 1 [trans_cmnt] => 1 [trans_num] => 1 [trans_cal] => 1 [en_tz] => 6 [dt_change] => 0 [bangla_tz] => 6 [hijri_adjust] => -24 [separator] => , [ord_suffix] => 1 [last_word] => 1 ) দৈনিক পূর্বকোণ | বাংলাদেশে আধুনিক সংবাদপত্রের পথিকৃৎ যুবলীগের নেতৃত্বের বয়স নির্ধারণ হতে পারে আজ | দৈনিক পূর্বকোণ

চট্টগ্রাম সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩:০০ am

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা অফিস

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাচ্ছেন নেতারা

যুবলীগের নেতৃত্বের বয়স নির্ধারণ হতে পারে আজ

চলমান শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পরেই ক্যাসিনোকা-ে সুবিধাভোগী হিসেবে নাম উঠে আসে যুবলীগের প্রতাপশালী চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর। এরপর থেকে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন তিনি। প্রায় এক মাস ধরে যাচ্ছেন না যুবলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তরে। যাচ্ছেন না নিজের প্রতিষ্ঠিত যুব গবেষণা কেন্দ্রেও। এদিকে যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর হবে এই কংগ্রেস। কংগ্রেস সামনে রেখে যুবলীগে চাঙা ভাব লক্ষ্য করা গেলেও সংগঠনটির চেয়ারম্যান আড়ালে দিন যাপন করছেন। সংগঠনের চেয়ারম্যানকে ছাড়াই কয়েকদিন আগে অনুষ্ঠিত হলো যুবলীগের প্রেসিডিয়াম বৈঠক। ওই বৈঠকে তার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। জানা গেছে, যুবলীগের আসন্ন কংগ্রেসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আনতে আজ রবিবার গণভবনে যাচ্ছেন যুবলীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এই বৈঠকেও থাকতে পারছেন না ওমর ফারুক চৌধুরী। তাকে গণভবনে যেতে বারণ করা হয়েছে বলে যুবলীগের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, কত বছর বয়স পর্যন্ত যুবলীগে থাকা যাবে, তার কোনো সীমা সংগঠনটির গঠনতন্ত্রে বেঁধে দেওয়া নেই। যুবলীগের বর্তমান সভাপতি ওমর ফারুকের বয়স ৭১ বছর। মূলত এ কারণেই বয়স বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আসন্ন কংগ্রেসে সংগঠনটি পরিচালনার জন্য নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে আলোচনা আছে। এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন, ‘কোন বয়স পর্যন্ত যুবলীগ করা হবে, তা নিয়ে রবিবার গণভবনের বৈঠকে আলোচনা হবে।’ ৭১ বছর বয়সী ওমর ফারুক চৌধুরীকে বাদ দিয়ে সংগঠনের অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার গুঞ্জনও রয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই আগামী ২৩ নভেম্বরের কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করবেন।
জানা গেছে, আজ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে ওমর ফারুক চৌধুরীকে বাদ দিয়ে প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র কোনো সদস্যকে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব দেবেন সংগঠনটির নেতারা। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় কংগ্রেসের প্রস্তুতি কমিটি গঠনসহ সার্বিক আয়োজন, যদি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাউকে না করা হয়, সেক্ষেত্রে কংগ্রেসে কে সভাপতিত্ব করবেন, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবলীগের সম্মেলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চাইবেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দপ্তরে যুবলীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, জাতীয় সম্মেলনকে (কংগ্রেস) সামনে রেখে আজ বিকাল ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে (গণভবনে) যুবলীগ নেতাদের ডাকা হয়েছে। এ সাক্ষাতের বিষয়ে আলোচনা করতেই মূলত বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, মো. ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, মো. আতাউর রহমান, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার নিখিল গুহ, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, এবারের জাতীয় কংগ্রেসের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমরা সার্বিক বিষয়ে তার দিক-নির্দেশনা চাইব। তিনি যেভাবে দিক-নির্দেশনা দেবেন সেই নির্দেশনা মেনেই পরবর্তী সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগে যাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের ছাড়াই কংগ্রেসের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সংগঠনের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এমনকি জাতীয় কংগ্রেস আয়োজনের সব কার্যক্রম থেকেও তাদের দূরে রাখার বিষয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে।

রাজধানীতে মাদক-দুর্নীতি-টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পরও ভোকাল ছিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান। সভা-সমাবেশে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। শুরুতেই ‘শুদ্ধি অভিযান’ নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দেয়ায় যুবলীগ চেয়ারম্যান সমালোচনার মুখে পড়েন। অবশ্য বাস্তবতা বুঝতে পেরে দ্রুত নিজেই অবস্থান বদল করেন। অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে ওমর ফারুক বলেন, ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে ক্যাসিনোর পেছনে যুবলীগের অনেকে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের সভাপতি হিসেবে এটি তার ব্যর্থতা বলে তিনি মনে করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ওরফে ক্যাসিনো খালেদ গ্রেফতার হওয়ার পর ধাক্কা খান ওমর ফারুক। এর পর আরেক যুবলীগ নেতা জিকে শামীম গ্রেফতার হন। তাদের জবানবন্দি থেকে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। পরে প্রায় পক্ষকাল ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান। এরা দুজনই ওমর ফারুকের আশীর্বাদপুষ্ট। তাকে রাজনৈতিক গুরু মানে এই দুজনই। ওমর ফারুক চূড়ান্ত বেকায়দায় পড়েন ক্যাসিনো সম্রাট গ্রেফতার হওয়ার পর। যুবলীগের প্রভাবশালী নেতারা ওমর ফারুকের আশকারায় বেপরোয়া হয়ে উঠেন বলে অভিযোগ ওঠে। গ্রেফতার যুবলীগ নেতারা ক্যাসিনোর অবৈধ আয় থেকে ওমর ফারুককে নিয়মিত মাসোয়ারা দিতেন বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক হিসাব তলব করা হয় ওমর ফারুকের। বিদেশ যেতে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। এর পর থেকে অনেকটাই গৃহবন্দি যুবলীগ চেয়ারম্যান।

বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। সাড়া দিচ্ছেন না ফোনে। রয়েছেন গ্রেফতার আতঙ্কেও। এই আতঙ্ক নিয়েই সময় কাটছে তার। সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর উত্তরায় যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের একটি ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলনে দেখা গিয়েছিল ওমর ফারুক চৌধুরীকে। এরপর থেকে তাঁর দেখা পাননি নেতাকর্মীরা। এদিকে ওমর ফারুক চৌধুরীর বাসার আশপাশের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে সেখানে প্রায়ই নেতাকর্মীদের লাইন লেগে থাকত। অভিযান শুরুর পর প্রথম দিকে অনেক নেতাকর্মী যুবলীগ চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এখানে এলেও এখন আর কারও দেখা মিলছে না।
তামাক বিড়ির ‘টেন্ডু পাতা’ বিক্রির মাধ্যমে ওমর ফারুক চৌধুরীর পেশাগত জীবন শুরু হয়। বিড়ি শ্রমিক লীগ, জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন যুব সংহতির রাজনীতি করে আসা ওমর ফারুক ২০০৯ সালে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। ২০১২ সালে যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়ার পর সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি নয়, সব বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই শেষ কথা হয়ে দাঁড়ায়। তার দাপটে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাও টু শব্দটি পর্যন্ত করার সাহস পাননি। অভিযোগ রয়েছে, যুবলীগের চেয়ারম্যান হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের অনুগতদের বসিয়েছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান। ঢাকা মহানগর ও দেশব্যাপী জেলা কমিটিগুলোও হয়েছেন তার পকেটের লোক দিয়ে।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা জানান, বিগত সাত বছরে তারা চেয়ারম্যানের ভয়ে তটস্থ ছিলেন। মুখ বুজে সব অপকর্ম সহ্য করেছেন। সংগঠনে সব সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নিয়েছেন। আমাদের শুধু সম্মতি দিতে হয়েছে। তার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দিলেই তাৎক্ষণিক বহিষ্কার, অফিসে আসতে বারণ পর্যন্ত করা হয়েছে। তারা বলেন, তার সব অপকর্ম জায়েজ করার মেশিন ছিল যুব জাগরণ প্রকাশনা। এখান থেকে নানা বই ও প্রকাশনা বের করে সবার কাছে ভালো সাজার চেষ্টা করতেন। পুরো সাত বছরে যুবলীগ বলতে আমরা শুধু তাকেই বুঝতাম।

The Post Viewed By: 156 People

সম্পর্কিত পোস্ট