চট্টগ্রাম রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩:০০ am

নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার

রোহিঙ্গাদের আর এক ইঞ্চি বনভূমিও নয়

কক্সবাজার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাবের হোসেন এমপি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফের বন, বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে ভূমির রূপ।

সাবাড় করা হয়েছে পাহাড়। এই অবস্থায় রোহিঙ্গাদের জন্য আর এক ইঞ্চি বনভূমিও দেয়া হবে না। রোহিঙ্গাদের জন্য পাহাড় কাটলে সংশ্লিষ্ট এনজিওর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাপক এই ক্ষতি লাঘবে দীর্ঘ ও স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা নেয়া হবে।

ক্ষতির মোট পরিমাপ নিরূপণে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি আগামী নভেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করবে। রিপোর্টের আলোকে কাজ করবে কমিটি। গতকাল শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৮ম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। তাদের জন্য যে ক্ষতি হয়েছে তা পুরোপুরি ফিরিয়ে পাওয়া সম্ভব না। তবে ক্ষতি যেন আর না বাড়ে সেজন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, বতর্মানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ৯-১০ হাজার টিউবওয়েল রয়েছে। যার জন্য ধীরে ধীরে নিচে নামছে পানির স্তর। খুব শীঘ্রই সেখানে তীব্র পানি সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থায় সারপেইজ ওয়াটার সিস্টেম নির্মিত করা হবে। যার সুফল স্থানীয়রাও ভোগ করবে। এখন থেকে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দের সকল সুযোগ-সুবিধায় আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে সীমান্তে ৬৩টি হাতি রয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প তৈরি হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে হাতির চলাচলের পথ। গত দুই বছরে হাতির পাল ৯৩ বার লোকালয়ে আক্রমণ করেছে। বিষয়টি লক্ষ্য রেখে হাতির জন্য তৈরি করা হবে বিকল্প পথ। রোহিঙ্গাদের জন্য আর কোন ক্ষতি সহ্য করা হবে না।

বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন আহামদ এমপি সাংবাদিকদের বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এখনও নানা স্থানে ছড়িয়ে আছে আবর্জনা। বিশেষ করে যত্রতত্র পলিথিনের ব্যবহার উদ্বেগজনক। এ জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ভাল নেই শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এছাড়া একটি পর্যটন শহরের রাস্তার অবস্থা দেখলে মানুষ দুঃখ পায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রয়োজন মানোন্নয়ন। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।

এর আগে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৮ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি, সদস্য রেজাউল করিম বাবলু এমপি, খোদেজা নাসরিন এমপি, আক্তার হোসেন এমপি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসিন, অতিরিক্ত সচিব ড. এস,এম মঞ্জুরুল হান্নান খান, অতিরিক্ত সচিব ড. বিল্লাল হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ.কে.এম রফিক আহমদ, প্রধান বন সংরক্ষক মো. সফিউলআলম চৌধুরী, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ জাফর আলম এমপি, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আফসারুল আফসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আল আমিন পারভেজসহ পদস্থ কর্মকর্তারা।

The Post Viewed By: 123 People

সম্পর্কিত পোস্ট