চট্টগ্রাম শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:১৮ অপরাহ্ন

চন্দনাইশ সংবাদদাতা

অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরি করছে সরকারি সংস্থা

চন্দনাইশে আতঙ্কে রয়েছেন অনুপ্রবেশকারী নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা

অনুপ্রবেশ করে নানা অপরাধ বা বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে সরকারি সংস্থা। ফলে চন্দনাইশে ২০০৮ সালের পর অনুপ্রবেশকারী নেতা ও অনেক জনপ্রতিনিধি আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানা যায়। এদের মধ্যে চন্দনাইশের ৫ জন জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন।

কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রস্তুত করছেন সরকারি একটি সংস্থা। এজন্য ১ টি নির্ধারিত ফরম দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। ২০০৮ সালের পর আ’লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আ’লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ ক্ষমতাসীন দলের নামে যে সব সংগঠন রয়েছে, সে সব দল বা সংগঠনে যোগদানকারী নেতা-কর্মীদের নাম, যোগদানের সময়, স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানা, মোবাইল ফোন নম্বর, আ’লীগে যোগ দেয়ার আগে কোন দল বা সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল, পূর্ববর্তী দলে পদ-পদবি যদি থাকে, বাবা-মা, চাচা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক তথ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পরিবারের ভূমিকা, আ’লীগে যোগ দেয়ার পর তার পদ-পদবি, আ’লীগে যোগ দিয়ে কোনো জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ-সম্পর্কিত তথ্য, মামলা-সম্পর্কিত তথ্য, সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রধানের মন্তব্য চাওয়া হয়েছে নির্ধারিত ফরমে।

উল্লেখ্য যে, টানা তৃতীয়বারের মত ক্ষমতায় আসার পর আ’লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনে ঢাকা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে পড়েছে সরকারি দলের এক শ্রেণির নেতাকর্মী। ক্ষেত্র বিশেষে সিন্ডিকেট করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারি ব্যবসা, জমি দখল, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজির মত অপরাধে জড়িয়ে তারা সরকারকে বিব্রত করছে। ২০০৮ সালে ক্ষমতার পালা বদলে যারা আ’লীগে এসে দলের মূল স্রোতের সঙ্গে মিশে গেছে তাদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ সকল উপজেলা সম্মেলন করা হবে খুব শীঘ্রই। সে সম্মেলনে অনুপ্রবেশকারীরা বাদ পড়ে যাবে। দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযানে চন্দনাইশে বিএনপি, এলডিপি, জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশ করে অনেকে দলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ইউপি নির্বাচনের আগে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, এলডিপি থেকে এবং পৌর নির্বাচনের আগে এলডিপি থেকে আ’লীগে এসে মনোনয়ন নিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। তাদের ঐসব দলে পদ-পদবিও ছিল। সে সাথে অনেকে পদ-পদবি ব্যবহার করে ক্ষমতার দাপটে আ’লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনে আত্মীয়-স্বজনদেরকে অন্তর্ভূক্ত করে নিজের পাল্লা ভারি করেছে অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে টেনে এনে। এরা দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে ঠিকাদারি ব্যবসা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনে নিজেদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনকে স্থান করে দিয়েছেন, তারা এখন আতঙ্কে রয়েছে। চন্দনাইশে প্রকৃত ও ত্যাগী আ’লীগ নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্ছার কন্ঠে আওয়াজ তুলেছিলেন বার বার। কিন্তু চন্দনাইশ উপজেলা আ’লীগের ১টি অংশ অনুপ্রবেশকারীদের সাথে নিয়ে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। ফলে চন্দনাইশে আ’লীগের বিভক্তি ও দূরত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। সম্প্রতি দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানে মুচকি হাসছেন ত্যাগী ও মাঠ পর্যায়ের ঐ সকল নেতা-কর্মীরা। আতঙ্কে রয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা সুবিধাভোগী দলছুট নেতারা। অনুপ্রবেশকারীরা এখনো তাদের সে পুরনো এলডিপি’র দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে সখ্যতা রেখে এলডিপি, বিএনপি’র নেতা- কর্মীদের দুঃসময়ে এসকল জনপ্রতিনিধিরা সাহায্যে এগিয়ে আসতে দেখা যায়।

পূর্বকোণ/পিআর

The Post Viewed By: 347 People

সম্পর্কিত পোস্ট