চট্টগ্রাম রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:০৬ am

হারুনুর রশীদ ছিদ্দিকী, পটিয়া

পটিয়া বিশেষ প্রতিবেদন

রাফির অন্ধত্ব জয়, মেধা তালিকায় ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায়

চোখের দৃষ্টি না থাকলেও মনের দৃষ্টি দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জন্য মেধা তালিকায় নির্বাচিত হয়েছে রাফি। সে ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স পড়ে ইংরেজিতে অধ্যাপনা করতে চান। সাইফুদ্দিন রাফি বাবু পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের উজিপুর গ্রামের মৃত মাস্টার আজহার উদ্দিনের ছেলে। সে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ হাজার প্রতিযোগী শিক্ষার্থীর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

রাফি ২০১৭ সালে ইউনিয়ন কৃষি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৯ সালে পটিয়া সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করে। তার পিতার আদি বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলায়। তার পিতা পটিয়ার ইউনিয়ন কৃষি হাইস্কুলে ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে স্কুলের পাশে জায়গা কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। গত ২ বছর পূর্বে তার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তার মা নাজনীন আক্তার একজন গৃহিনী। রাফি ৩ বছর বয়সে তার দাদির জন্য ঘরের কার্নিশ থেকে চুনের প্যাকেট নিতে গিয়ে ফসকে তার চোখে চুন চিটকে পড়ে দু’চোখ নষ্ট হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন চিকিৎসক দ্বারা এবং ভারতের চিকিৎসা করেও তার চোখের আলো ফিরে পাইনি। তার দু’বোন রয়েছে। একবোন হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন আর ছোট বোন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে লেখাপড়া করছে। বোনের বেতনের টাকায় চলে তার পরিবার।

রাফির স্বপ্ন নিয়ে জানতে চাইলে সে জানায়, শ্রুতিলিখনের মধ্যে আরেকজনের সাহায্যে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। তার পিতার মতো সে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক হতে চায়। রাফি পড়ালেখার পাশাপাশি সংগীত চর্চাও করেন। তার ভবিষ্যত পড়ালেখা চালিয়ে নিতে সমাজের দানশীল ও বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন রাফি। বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক ও প্রথম আলোর পক্ষ থেকে লেখাপড়ার জন্য আর্থিক সহযোগিতা পান রাফি। সেসাথে ঢাবির ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন সাইফুদ্দিন রাফি।

The Post Viewed By: 99 People

সম্পর্কিত পোস্ট