চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:৪০ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক হ রামগড়

রামগড়ে থানা ভবন উদ্বোধন ও জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রামে রক্তের হোলি খেলা আর দেখতে চাই না

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সারা দেশের মতই পার্বত্য চট্টগ্রামেও আইন শ্ঙ্খৃলা রক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। এখানে আমরা আর রক্তের হোলি খেলা দেখতে চাইনা। এটা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। কি নেই পার্বত্য এলাকায়। রক্তের হোলি খেলা বন্ধ করে আসুন আমরা সবাই মিলে এ তিন পার্বত্য জেলাকেও সমানতালে এগিয়ে নিয়ে যাই দেশের অন্যান্য স্থানের মত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদকে কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে। জলদস্যু ও চরমপন্থিরা আত্মসমর্পন করে স্বভাবিক জীবন যাপন করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও কেউ নিজেদের কৃতকর্মের ভুল স্বীকার করে যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, আমরা স্বাগত জানাবো। পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, আজ বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটিতে হেডম্যান, কার্বারিসহ সকল জনপ্রতিনিধি, সুশীলসমাজ, প্রশাসন সবাই নিয়ে বৈঠক হবে। সকলের পরামর্শ ও মতামত

নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গতকাল বুধবার খাগড়াছড়ির রামগড়ে স্থানীয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, ফেনী নদীর উপর মৈত্রী সেতুর নির্মাণ শেষে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। সাবেক প্রাচীন মহকুমা রামগড়কে জেলা ঘোষণার জনদাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, রামগড়কে জেলায় উন্নীত করার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি খাগড়াছড়ির এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে আহবান জানান।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আহমার উজ্জামানের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ির এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি বাসন্তি চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, চট্টগ্রামের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ ত্রিপুরা, পৌরসভার মেয়র মো. শাহ জাহান কাজী রিপন, সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য মংপ্রু চৌধুরি ও উপজেলা আ. লীগের যুগ্ম আহবায়ক কাজী নুরুল আলম আলমগীর।

রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ সমাবেশের সঞ্চালক ছিলেন।

সমাবেশ অনুষ্ঠানের আগে নবনির্মিত রামগড় থানা ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম ও গুইমারা রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শাহরিয়ার জামানসহ সামরিক, বেসামরিক বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

The Post Viewed By: 158 People

সম্পর্কিত পোস্ট