চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাইকারি মোকামে ম্যাজিস্ট্রেট

মুহূর্তেই ৫৫ টাকায় নেমে এলো ৭৫ টাকার পেঁয়াজ

বেসামাল পেঁয়াজের বাজারে আবারো অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত লাভে পেঁয়াজ বিক্রির অভিযোগে দুই আড়তদারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে অভিযানের আগে বিক্রি করা পেঁয়াজের দাম মুহূর্তের মধ্যেই কেজিতে ১৫ টাকা কমে গেল। ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কাট্টলি সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম অভিযানের নেতৃত্ব দেন। র‌্যাব ও পুলিশের সহায়তা ভোগ্যপণ্যের বড় পাইকারি মোকাম খাতুনগঞ্জে অভিযান চালানো হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘বাজারে পেঁয়াজের সংকট নেই। প্রচুর পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল ছিল। দাম কমে ৫০-৬০ টাকায় নেমে এসেছিল। কিন্তু দু’তিন ধরে আমদানিকারক ও কমিশন এজেন্টদের কারসাজিতে বাজার চড়া করে তোলে। ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাইকারি বাজারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তার প্রমাণও মিলেছে। মিয়ানমারের আমদানি করা পেঁয়াজের আমদানিমূল্য হচ্ছে ৪২ টাকা। কিন্তু সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকায়। মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা দরে বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট। আর ভারতীয় আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা বিক্রির জন্য বলা হয়েছে। ওই দামে পেঁয়াজ বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে মেসার্স নিউ শাহ আমানত ট্রেডার্সকে এবং মেসার্স আজমীর ভা-ারকে ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে দেখা যায়, মেসার্স শাহ মুছা ট্রেডার্স গত ১০-১১ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি করেছে ৫৫-৬২ টাকায়। ১২ অক্টোবর সেই পেঁয়াজ বিক্রি করেছে ৭০ টাকা কেজি দরে। দাম বৃদ্ধির জন্য কমিশন এজেন্ট ও আমদানিকারকদের দুষলেন আড়তদার। আড়তদারের চালানপত্র জব্দ করা হয়েছে। মেসার্স মোহাম্মদীয়া ট্রেডার্সে ৮৬ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছিল। খাজা ট্রেডার্সে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছিল ৫০-৫৫ টাকা দরে। মেসার্স চট্টগ্রাম বারো আউলিয়া ট্রেডার্স, মেসার্স বরকত ভা-ার, শাহাদাত এন্ড ব্রাদার্স, হাজি আফিজ উদ্দিন সওদাগরসহ ১২-১৫ আড়তে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসব আড়তে অভিযানের পর সবকটি আড়তে মুহূর্তের মধ্যেই দাম কমে যায়। অথচ অভিযানের আগেই মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৭০-৭৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। বিভিন্ন আড়তের টাঙানো মূল্য তালিকায় তা দেখা গেছে।
দেখা গেছে, পেঁয়াজের পাইকারি মোকাম খাতুনগঞ্জ ও হামিদ উল্লাহ মার্কেটে বিভিন্ন আড়তের সামনে পচা ও নষ্ট পেঁয়াজের স্তুপ রাখা হয়েছে। আড়তদের দাবি, মিয়ানমারের আমদানি করা পেঁয়াজে বেশির ভাগ পচে যাচ্ছে। পচা বা নষ্ট পেঁয়াজ ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। নষ্ট ও ভালোমানের পেঁয়াজের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এক ট্রাকের (৪শ বস্তা) ৫-১০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট পড়ছে। পচা পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে যাচ্ছেতাই দাম হাতিয়ে নিচ্ছে আড়তদাররা।

The Post Viewed By: 609 People

সম্পর্কিত পোস্ট