চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩:২০ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দশ কারণে একে একে বন্ধ হচ্ছে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস

দশ কারণে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস শিল্পকারখানাগুলো। যেগুলো টিকে আছে সেগুলোও ধুঁকে ধুঁকে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। এছাড়াও দক্ষতা, শিল্প প্রকৌশল এবং কারিগরি জ্ঞানের অভাবও এক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

নগরীর ঝাউতলায় বিজিএমইএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে স্টেক হোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি এমএ সালাম। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের গার্মেন্টস শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পিছনে কয়েকটা কারণের মধ্যে অন্যতম হল এলায়েন্স ও একর্ড এর ফর্মুলা অনুযায়ী সংস্কার করতে না পারা, নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে অক্ষমতা, পণ্যের যথাযথ মূল্য না পাওয়া, বিদেশি বায়ারদের চট্টগ্রাম বিমুখতা, কিছু বায়ার ও বায়িং হাউসের প্রতারণা, চট্টগ্রামে অবকাঠামোগত সমস্যা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ব্যাংক ঋণ পেতে দীর্ঘসুত্রতা, বড় বড় প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকা ও অসম প্রতিযোগিতা। এসব সমস্যাগুলো সমাধান করতে না পারলে ৩০ লক্ষ শ্রমিক হুমকির মুখে পড়বে।

মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, নাছির উদ্দিন চৌধুরী, বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ মনসুর, মার্স এপারেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.মহসীন, মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক তানভীর বলেন, ‘একটা সময় বৈদেশিক ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে বিপুল ক্রয়াদেশ (অর্ডার) পাঠাতো। কিন্তু এখন তা অনেক কমে গেছে। তারা (ক্রেতারা) এখন ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও শ্রীলংকাকে ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। এটা আমাদের জন্য হুমকি। আমরা নির্দিষ্ট কিছু প্রোডাক্টই পর্যায়ক্রমে উৎপাদন করে আসছি। আরো প্রোডাক্ট বাড়াতে হবে। আমরা ৬৪টি প্রোডাক্ট উৎপাদান করছি। অন্যদিকে চায়না প্রায় এক হাজারেরও বেশি প্রোডাক্ট উৎপাদন করছে। তাদের পণ্যের যোগান যেমন বেশি বায়ারদের ক্রয়াদেশও ওখানে বেশি। তাই আমাদের এই শিল্পকে বাঁচাতে ভেতর ও বাহিরের সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে হবে।’

বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপাতি আবু তৈয়ব বলেন, ‘পোশাক শিল্প কারখানার মালিকরা এখন যে সমস্যাগুলোর মধ্যে পড়ছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে লিড টাইম। বন্দরে কন্টেইনার আটকে থাকছে, সময় মত পণ্য পৌঁছানো যায় না। এতে অর্ডার হারাচ্ছি আমরা। তাছাড়া পণ্য উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে অটো মেশিন ব্যবহার করতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, মোহাম্মদ মুসা, এ এম মাহাবুব চৌধুরী, এনামুল অজিত চৌধুরী, মো. আতিক, খন্দকার বেলায়েত হোসেন, প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন, এরশাদ উল্লাহ, এমদাদুল হক চৌধুরী, ইয়াছিন আলী প্রমুখ।

The Post Viewed By: 593 People

সম্পর্কিত পোস্ট