চট্টগ্রাম শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩:০১ পূর্বাহ্ন

নাজিম মুহাম্মদ

ইয়াবা ঠেকাবে স্ক্যানার

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার ইয়াবা সংক্রান্ত মামলার আসামি ৭৫ শতাংশ। ছয়মাসে ২৪ হাজতির বিরুদ্ধে ২১ মামলা ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার

ইয়াবা ঠেকাতে কারা ফটকে বডি স্ক্যানার মেশিন বসাবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। স্ক্যানার মেশিনের চাহিদার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে কারাগার কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম কারগারের মোট বন্দীর ৭৫ শতাংশ ইয়াবা সংক্রান্ত মামলার আসামি। ইয়াবা বহনের অপরাধে গত ছয়মাসে ২৪ জন বন্দীর (হাজতি) বিরুদ্ধে থানায় ২১টি মামলা দায়ের করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের কাছ থেকে সাত হাজারেরও বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়া ও নতুন বন্দীদের কাছ থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তিল ধারণের ঠাঁই নেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে। দিন দিন বাড়ছে বন্দীর সংখ্যা। কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ১৮’শ ৫৩ জন। গত শনিবার বন্দীর সংখ্যা ছিল আট হাজার দুইশো ৫৫ জন। যা ধারণ ক্ষমতার প্রায় পাঁচগুণ বেশি। এ অবস্থায় নতুন আরো একটি কারাগার স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, মামলার হাজিরা দিতে যাওয়া ও নতুন বন্দীরা সাধারণ জেলে ইয়াবা ঢুকানোর চেষ্টা করছে। অনেক সময় বন্দীদের দেখতে আসা দর্শনার্থীরাও ইয়াবা নিয়ে আসছে। তবে কারাভ্যন্তরে যাবার আগে জেল গেইটে বন্দীদের পুরো শরীর তল্লাশি করা হয়। এ ধরনের তল্লাশিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে গত ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ২৪ জন হাজতির বিরুদ্ধে ইয়াবা বহনের অপরাধে মামলা দেয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে সাত হাজার তিনশো দুটি ইয়াবা। সর্বশেষ তানভীর নামে এক হাজতির কাছে ৪৫০টি ইয়াবা পাওয়া গেছে। আদালতে মামলার হাজিরা শেষে কারাগারে প্রবেশের আগে তল্লাশিতে তার কাছে এসব ইয়াবা পাওয়া যায়। তানভীর নেত্রকোণা জেলার বারহট্টা থানার আলতাবুর রহমানের ছেলে।

জেল সুপার বলেন, বিভিন্ন কৌশলে বন্দীরা কারাভ্যন্তরে ইয়াবা নেয়ার চেষ্টা করছে। অধিকাংশ সময় ধরা পড়ে যায়। উৎকণ্ঠার বিষয় হচ্ছে পেটের ভেতর করেও ইয়াবা নিয়ে আসছে অনেকে। যা তাৎক্ষণিকভাবে ধরা সম্ভব হয়না। তাই কারা ফটকে আমরা বডি স্ক্যানার মেশিন বসানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার ছাড়া দেশের অন্য কোন কারাগারে স্ক্যানার মেশিন নেই। ইতিমধ্যে কারা ফটকে মেটাল আর্চওয়ে গেইট ও লাগেজ স্ক্যানার মেশিন বসানো হয়েছে।
ইয়াবা পাচার, বহন ও সেবনের অপরাধে সবচেয়ে বেশি বন্দী রয়েছে কক্সবাজার কারাগারে। এরপরের স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাসির আহমেদ জানান, কারাভ্যন্তরে দাগী অপরাধীরা আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়েছে। অনেকে রান্নাবান্নাও করেছে। বর্তমানে সব বন্দীর সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
নতুন কারাগার স্থাপনের পরিকল্পনা: দিন দিন বন্দীর সংখ্যা বাড়ছে চট্টগ্রাম কারাগারে। ধারণ ক্ষমতার বেশি বন্দী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। ঠাসাঠাসি করে থাকতে হচ্ছে বন্দীদের। এ অবস্থায় আরো একটি কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। যেটি হবে চট্টগ্রাম কারাগার ইউনিট-২। কর্ণফূলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে কর্ণফুলী, আনোয়ারা কিংবা পটিয়া এলাকায় কারাগারটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার বন্দী সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কারাগার। ১৮৮৫ সালে এ কারাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এটিকে কেন্দ্রীয় কারগারে উন্নীত করা হয়। কারাগারের মোট জমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৮৭ একর। এরমধ্যে দেয়ালের অভ্যন্তরে ৮ দশমিক ৯ একর, বাইরে ৪ দশমিক ৭৭ একর। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারসহ চট্টগ্রাম বিভাগে মোট কারাগারের সংখ্যা এগারোটি।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা-উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) একেএম ফজলুল হক জানান, আরো একটি কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। ইতিমধ্যে দুই একটি স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ স্থানগুলো পরিদর্শন করা হবে। তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে কর্ণফুলীর দক্ষিণ এলাকার কর্ণফুলী থানা, আনোয়ারা কিংবা পটিয়ায় কারাগারটি নির্মাণের চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে।

The Post Viewed By: 279 People

সম্পর্কিত পোস্ট