চট্টগ্রাম শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:৫১ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাতের আকাশে বর্ণিল ফানুস

প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত আজ মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা গতকাল দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীসহ দেশের বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এরমধ্যে ছিল জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল ও অষ্ট উপসথ শীল গ্রহণ, মহাসংসদান, অতিথি আপ্যায়ন, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, আলোচনা সভা, প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা, ফানুস ওড়ানো ও বুদ্ধকীর্তন। প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন তথা আজ থেকে এক মাস দেশের প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে শুরু হবে কঠিন চীবর দান উৎসব।

সম্মিলিত প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদ :

পূর্ণিমার আলোয় উদ্ভাসিত হোক বাংলার জনপদ। পৃথিবীর সকল খারাপ কর্ম ও বস্তুতে বিদায় দিয়ে মঙ্গলকে বরণ করার নামই প্রবারণা। এই পূর্ণিমার পবিত্র আলোয় আলোকিত হোক সবার জীবন। দূর হোক জীবনের সকল অন্ধকার। মঙ্গলের এ উৎসব সবার। এখানে নেই কোনো জাতি ধর্মের ভেদাভেদ। এটি ধর্মের সার্থকতা। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক। গতকাল নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবারণা পূর্ণিমার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া এ কথা বলেন।

সন্ধ্যা ছয়টায় ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া ফানুস উড়িয়ে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান অজিত রঞ্জন বড়–য়া, নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান, কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন, সম্মিলিত প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী স্বপন কুমার বড়–য়া, আহ্বায়ক টিংকু বড়–য়া, যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ কান্তি বড়–য়া, অধ্যাপক ড. সুব্রত বড়–য়া, মিথুন বড়–য়া, সীমান্ত বড়–য়া, কানন বড়–য়া, সজীব বড়–য়া ডায়মন্ড, রাজেশ বড়–য়া, সৌমেন বড়–য়া, কাজল প্রিয় বড়–য়া, ছাত্রনেতা ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী রিন্টু প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে উৎসব সবার। তাই যার যার ধর্ম তাকে সুন্দর ভাবে পালনের সুযোগ করে দেয়াও সকলের নৈতিক কর্তব্য। এছাড়া সকলেই ফানুস উড়ানো ও আতস বাজি ফুটানোর আনন্দে মেতে উঠে। বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগঠনগুলো তাদের নিজেদের সংগঠনের নাম দিয়ে তৈরি করেছে নানা রঙ্গের ফানুস। বিকেল পাঁচটায় মন্দির প্রাঙ্গণে শত আলোক প্রজ্জ্বলন করেন পূণার্থীরা। এসময় মন্দির প্রাঙ্গণ জুড়ে ছিলো পূণার্থীদের ভিড়। পূণার্থীদের হাতে ছিল নানারকম ফুল, ফল, আগরবাতিসহ বিভিন্ন উপকরণে সাজানো থালা। যা দিয়ে করছেন প্রার্থনা। এদিকে ভোর ছয়টায় বিশ্বের মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা।

নব পন্ডিত বৌদ্ধ বিহার : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মের বড় ধর্মীয় উৎসব। মহামতি গৌতম বৌদ্ধের শিক্ষা হচ্ছে দু:খ, মুক্তির কঠিন সাধনায় সব ধরনের অন্তরায় ও বাঁধা দূর করে। যা কিছু কুলুষিত বা অন্তরায় সৃষ্টি করে তা এড়িয়ে সম্মুখের পথে এগিয়ে যাওয়া প্রকৃষ্টরূপ। তিনি গতকাল ১৩ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় কাতালগঞ্জ নব পন্ডিত বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, আপনাদের সকল অনুষ্ঠানে আমরা ছুটে আসি। কিছুদিন আগে রামু বৌদ্ধবিহারের সত্যপ্রিয় মহাথেরোর পেটিকাবদ্ধ অনুষ্ঠানে আমি ঢাকা থেকে সরাসরি গিয়েছিলাম। ভক্তদের আগমনে আমি অভিভূত। আপনাদের আজকের এই প্রবারণা পূর্ণিমায় আগত ভক্তদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। সকল ধর্মের মর্ম বাণী হচ্ছে সত্য ও ন্যায়ের পথে এবং সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে এইটি অনুসরণ করা উচিত। বিশেষ অতিথি আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। কাতালগঞ্জ নবপন্ডিত বৌদ্ধ বিহারের উপানন্দ মহাথেরোর সভাপতিত্বে ও জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগরের আহবায়ক অধ্যাপক ঝন্টু বড়–য়ার পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এম এ আজিজ, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, সামশুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, কোতোয়ালী থানার সভাপতি মঞ্জুর রহমান চৌধুরী মঞ্জু, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, চকবাজার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নূর হোসেন প্রমুখ।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়–য়া বলেছেন, প্রবারণা পূর্ণিমা আমাদের বড় ধর্মীয় উৎসব। মহামতি গৌতম বৌদ্ধের শিক্ষা হচ্ছে দুঃখ, মুক্তির কঠিন সাধনায় সব ধরনের অন্তরায় ও বাধা দূর করে। তিনি প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফ্রন্টের উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর। জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগরের আহবায়ক ও মহানগর বিএনপির উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ঝন্টু বড়–য়ার সভাপতিত্বে ও রুবেল বড়ুয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী মিঠু, মঞ্জুর রহমান চৌধুরী মঞ্জু, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি সনদ কুমার তালুকদার, আলী আব্বাছ খান, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, আনন্দ বোধি ভিক্ষুু, সুমঙ্গল থেরো, সুহাস চৌধুরী, আবদুল জলিল, পলাশ মারমা, আকাশ বড়–য়া, জয় বড়–য়া, অনিক প্রিয় চৌধুরী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, প্রবারণার পর গৌতমবুদ্ধ ভিক্ষুদের বহুজনের হিতের জন্য দিকে দিকে বের হওয়ার আহবান জানান এবং ধর্মপ্রচারের নির্দেশ দেন। তিনি সেসময় বলেছেন, এমন ধর্ম প্রচার না করতে যা মানবের জন্য হিতকর নয়। সঙ্গে সঙ্গে সত্যকে বরণের কথা এবং লোভকে বর্জনের কথা বলেন। সেজন্য বরণ ও বারণের কারণেও এটা প্রবারণা পূর্ণিমা। প্রবারণাকে বৌদ্ধেরা বলে বড় ছাদাং।

The Post Viewed By: 274 People

সম্পর্কিত পোস্ট