চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:৩২ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম নয়, প্রতিষ্ঠান

চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক দর্শন : বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা গতকাল (রবিবার) সকালে চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক’ ড. মুনতাসীর মামুন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর মো. জাকির হোসেন। চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরীর পরিচালনায়

ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ।

প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার তাঁর ভাষণের শুরুতে মহাকালের মহানায়ক স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম নয়, একটি প্রতিষ্ঠান। এই মহান নেতা শৈশবকাল হতে মা, মাটি ও মানুষকে নিয়ে ভাবতেন। তাইতো এদেশের মানুষকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য ১৯৭১ সালে তাঁরই আহ্বানে এবং সুযোগ্য নেতৃত্বে বীর বাঙালি পাকিস্তানি হায়েনাদের সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশকে মুক্ত করেন, বিশ^ মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা করেন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, জাতির জনকের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত, গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্ত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ একটি মানবিক বাংলাদেশ। জাতির জনকের এই স্বপ্ন পূরণে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশ শিক্ষা-সংস্কৃতি, চিকিৎসা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সূচকে পাশ^বর্তী দেশগুলোকে পিছনে ফেলে অদম্য-দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে।

উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুনকে চবি মনোগ্রাম খচিত সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।

অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন তাঁর ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন, বাঙালিদেরও স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়ন করেছেন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে নিরক্ষরতা দূরীকরণের যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কৃষি থেকে শুরু করে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশ^বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনে অন্তর্ভূক্তকরণসহ শিক্ষায় বৈচিত্র করণের কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু শিক্ষা এবং শিক্ষাবিদদের অত্যন্ত শ্রদ্ধা এবং সম্মান করতেন, একারণে ’৭৩ অধ্যাদেশ এর মাধ্যমে বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানরূপে বাস্তব স্বীকৃতি প্রদান করেছিলেন যাতে বিশ^বিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণা ও চিন্তা-চেতনা নিয়ে আলোকিত মানবসম্পদ উৎপাদন করতে ব্রতী হয়। ড. মুনতাসীর মামুন এই অধ্যাদেশ পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ^বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সকল প্রকার নেতিবাচক কর্মকা- দূরীভূত হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

স্মারক বক্তৃতায় চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।-বিজ্ঞপ্তি

The Post Viewed By: 105 People

সম্পর্কিত পোস্ট