চট্টগ্রাম শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:২০ পূর্বাহ্ন

নরোত্তম বনিক, সন্দ্বীপ

সন্দ্বীপ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা

খসকি জালে ইলিশ শিকার

‘রাজনৈতিক জেলেরা অনায়াসে মাছ ধরে বিক্রি করছে’

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্দ্বীপ উপজেলার উপকূলজুড়ে চলছে ইলিশ শিকারের মহোৎসব।

মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় আশ্বিনী পূর্ণিমাকে সামনে রেখে প্রতি বছর নদী ও বঙ্গোপসাগরে ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য অধিদপ্তর। এ বছর এই বন্ধ ৮ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সরকারের এই নির্দেশনাকে মেনে সাধারণ জেলেরা নদী থেকে সকল জাল তুলে নিলেও কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার জালে এখনো পর্যন্ত ইলিশ শিকার চলছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মগধরা ইউনিয়নের গুপ্তছড়া ফেরীঘাটের দক্ষিণ থেকে সারিকাইতের চৌকাতলী পর্যন্ত সন্দ্বীপ চ্যানেল ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা নতুন চরে ৫০টির অধিক খুঁটি জাল দিয়ে ইলিশ শিকার চলছে। ৭০ থেকে ১০০ হাত দূরত্বে দুইপাশে খুঁটি গেড়ে ইলিশ শিকারের পাতা বিশেষ জালকে স্থানীয় ভাষায় খসকি জাল বলা হয়। নিষেধাজ্ঞা জারির শুরুতেই স্থানীয় সাধারণ জেলেরা তাদের জালগুলো নদী থেকে তুলে নিয়েছে। কিন্তু নেতাদের মালিকানাধীন খসকি জালগুলো এখনো নদীতে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। গত ৯ অক্টোবর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মামুন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক ও কোস্টগার্ড বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মগধরা ইউনিয়নের আমতলী বাজার ও প্যালিশ্যার বাজার থেকে ইলিশ উদ্ধার করে সতর্কতামূলক শাস্তি দেন। তবুও আইন অমান্য করে মগধরা ইউনিয়নের কয়েকজন নেতার জালে মাছ ধরা হচ্ছে। মাছগুলো ছোয়াখালী ঘাটের উত্তর পাশের একটি চায়ের দোকানে উঠায়। সেখান থেকে তাদের আশ্রিত বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে রাতে ষোলশহর বাজার এলাকা থেকে আমতলী বাজার পর্যন্ত মাছগুলো বিক্রি করে। মাছ ধরা বন্ধ রাখার সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের মালিকানাধীন জালে মাছ ধরে বিক্রয়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ পেশাদার জেলেরা। তবে তাদের ভয়ে মুখ খুলছে না কেউ। জেলে সংগঠনের নেতা নিখিল দাস বলেন, সরকারের আইন মানতে গিয়ে প্রকৃত জেলেরা বৌ-বাচ্চা নিয়ে ভাতের কষ্ট করছি। আর রাজনৈতিক জেলেরা অনায়াসে মাছ ধরে বিক্রি করছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সরকার ইলিশ আহরণ বন্ধ ঘোষণা করেছে। নিষেধ অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোস্ট গার্ডের সারিকাইত কন্টিনজেন্ট কমান্ডার বলেন, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরতে নামলে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। নদীতে নেমে অন্য মাছ আহরণ করার সময় মা ইলিশ যাতে মারা না পড়ে, সেই লক্ষ্যে নদী-সাগরে নামতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইলিশ শিকার বন্ধের সময় সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য সহযোগিতা চালু রেখেছে সরকার।

The Post Viewed By: 104 People

সম্পর্কিত পোস্ট